অনেকটা যেন ঝড়ের মতোই ফিরলেন সানি পাজি। সানি দেওলকে এ নামেই ডাকে বলিউড। নব্বইয়ে তিনি নায়ক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন. কিন্তু এরপর ‘ঢাই কিলো কা হাত’ আর ‘তারিখ পে তারিখ’ ছাড়া সানি দেওল পরিণত হন মিম ম্যাটেরিয়ালে। কিন্তু সে সানি দেওলই দিলেন বছরের অন্যতম বলিউড ব্লকবাস্টার। ৮০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সানি দেওল অভিনীত ‘গদর টু’ ভারতের বক্স অফিসে আয় করেছে প্রায় ৬১৬ কোটি রুপি। সন্দেহ নেই গত পাঁচ বছরের বলিউডে এ এক মাইলফলক। কিন্তু এ বছর মাইলফলক তৈরি হচ্ছিল শুরুতেই। শাহরুখ খান ফিরেই দিলেন এক ব্লকবাস্টার। সচনিলকের তথ্য অনুসারে গত জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া পাঠানের আয় প্রায় ৬৫৮ কোটি রুপি। সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়া জওয়ান ১৫ দিনে ৬২২ কোটির বেশি আয় করে ঘোড়া ছুটিয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে মনে হয় বলিউডের সুদিন ফিরল।
এ গেল বড় বড় সিনেমার কথা। এর বাইরে আরো অনেক সিনেমা ভালো আয় করেছে। গত ২৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত ‘ড্রিম গার্ল টু’। ৬০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এ সিনেমা ভারতে আয় করেছে প্রায় ১২৩ কোটি রুপি। অতিমারী-পরবর্তী সময়ে এ রকম একটি লো বাজেট সিনেমার ১০০ কোটি রুপি আয় পার করা অসম্ভবের কাছাকাছি একটি বিষয়। বিশেষত বলিউডের সিনেমা তা পারছিল না। কিন্তু পাঠান-জ্বর দিয়ে শুরু হওয়া বছরে বলিউড বেশকিছু সিনেমা পেয়েছে, যা আশাতীত আয় করেছে।
অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘ওএমজি টু’ আয় করেছে ১৭৮ কোটি রুপি। করণ জোহরের ‘রকি আউর রানি কি প্রেম কাহানি’ আয় করেছে ১৮০ কোটি রুপি। সমালোচিত হলেও আদিপুরুষ ভারত থেকে আয় করেছে মোট ৩৪২ কোটি রুপি। যদিও বাজেটের অর্ধেকই তুলেছে সিনেমাটি। শতকোটির ঘর পার করেছে ‘জারা হটকে জারা বাচকে’র মতো লো প্রফাইল সিনেমা। বিতর্কিত ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ আয় করেছে ২৮৬ কোটি রুপি। অজয় দেবগন অভিনীত ‘ভোলা’ আয় করেছে ১০৮ কোটি রুপি। রণবীর ও শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ বৈশ্বিক ২ কোটি পার করার পাশাপাশি ভারতে আয় করেছে ১৭৫ কোটি রুপি। সিনেমার বাজেট ছিল ৭০ কোটি। সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে শতকোটি পার করা বেশকিছু সিনেমা আছে।
কিন্তু আসলেই কি ফিরেছে বলিউড? উল্লেখ করা হিসাব বা তালিকার দিকে তাকালে বেশকিছু বিষয় নজরে আসে। প্রথমত, বক্স অফিসে বড় অংকের আয় করা সিনেমা নির্দিষ্ট। বিশেষত তিনটি বলিউড সিনেমার নাম আসবে—পাঠান, গদর টু ও জওয়ান। এর মধ্যে দুটিই শাহরুখ খানের। রণবীর কাপুরের সিনেমাটি অ্যাকসিডেন্টলি ভালো করে গেছে। এর বাইরে শতকোটি পার করা কয়েকটি সিনেমা মূলত সিকুয়াল। ‘গদর টু’ চলেছে জাতীয়তাবাদের কারণে। ‘ওএমজি টু’ ও ‘ড্রিম গার্ল টু’ বক্স অফিসে ভালো করেছে এদের পূর্ববর্তী সিনেমার রেশে। এর বাইরে বলিউডে এসেছে ‘ঘুমর’, ‘যোগীরা সারা রা রা’, ‘আফওয়া’, ‘ভীর’ প্রভৃতি সিনেমা। এরা দুই অংকেও পৌঁছতে পারেনি।
এ বছর বলিউডের হাতে আছে আরো বেশকিছু সিনেমা। এর মধ্যে শাহরুখ খানের ‘ডাঙ্কি’ ও সালমান খানের ‘টাইগার থ্রি’ নিয়ে আশাবাদী সবাই। কিন্তু সেখানেও শাহরুখ-সালমান। এর বাইরে বলিউডের দিকে তাকালে নতুন কোনো চেহারা দেখা যাচ্ছে না। পুরনো নির্মাতারা (হানসাল মেহতা, বিশাল ভরদ্বাজ পর্যন্ত) ঝুঁকছেন ওটিটির দিকে। কয়েকটি সিনেমা তুমুল ব্যবসা করছে, কিন্তু মোটের ওপর বলিউডে নতুন কোনো তারকা, ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। এ অবস্থায় কয়েকটি সিনেমা দিয়ে বলিউডের সুদিন কতদিন থাকবে তাতে সন্দেহ আছে।










