অস্কার ঘোষণা হতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। যে সিনেমাগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম ‘অ্যানাটমি অব ফল’। ‘ওপেনহাইমার’ ও ‘কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হওয়ায় কিছুটা পেছনেই পড়ে থাকছে জাস্টিন ত্রিয়ে পরিচালিত সিনেমাটি। ফ্রেঞ্চ এ সিনেমা নানা কারণে অস্কারে সেরা সিনেমার অন্যতম দাবিদার। জাস্টিন ত্রিয়ে এমন একটি কোর্টরুম ড্রামা নির্মাণ করেছেন, যা নানা সময়ে চলচ্চিত্র উৎসব ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখানেই শেষ নয়, কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রবল মনোযোগ ও প্রশংসার পাশাপাশি জিতে নিয়েছে পাম ডি’অর। এর মাধ্যমে কানের ৭৬ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় নারী নির্মাতা হিসেবে পাম ডি’অর জিতেছেন ত্রিয়ে।

কান উৎসবের সেরা সিনেমা অবধারিতভাবেই অস্কারে সেরার বিবেচনায় এগিয়ে থাকে। সিনেমাটি নিয়ে হলিউড রিপোর্টার লিখেছিলেন, ‘এটি দুর্লভতম সিনেমার একটি, যা অস্কার জয় করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব দাবিই মেটাতে সক্ষম। সিনেমার গল্প চমৎকার। সমালোচকদের মন জয় করার পাশাপাশি সিনেমাটি পছন্দ করেছেন বহু দর্শক। এছাড়া অ্যানাটমি অব ফল বিপণন করেছে নিয়নের মতো মর্যাদাবান প্রতিষ্ঠান।’

অস্কার নিয়ে যারা বিশ্লেষণ করেন তারা জানেন, সেরা সিনেমা হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল সিনেমার গুণ নয়, বিবেচনায় আসে নির্মাতা ও অভিনেতা থেকে শুরু করে প্রযোজনা, এমনকি বিপণন প্রতিষ্ঠান। আবার কোনো কোনো সময় নির্মাতার লিঙ্গ, জাতীয়তা ও তার পেশাগত অর্জনও প্রভাব ফেলে অস্কারে। অ্যানাটমি অব ফলের ঝুলিতে প্রতিটা বিষয়েরই ইতিবাচক বেশকিছু দিক আছে।

সিনেমাটি নিয়ে ফ্রান্সেও বেশকিছু ঘটনা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সিনেমা বিশেষজ্ঞদের। প্রতিটি দেশই তাদের সিনেমা থেকে নির্দিষ্ট একটিকে প্রেরণ করে অস্কারের জন্য। এ বছর ফ্রান্সে অস্কার নিয়ে আলোচনার সময় তারা প্রথম দিকে বিবেচনায় রেখেছিল ‘দ্য টেস্ট অব থিংস’। কেননা কান উৎসবে এ সিনেমা নিয়েও বেশ আলোচনা হয়েছিল। আরো কয়েকটি বিষয় ছিল। যেমন কেউ কেউ বলেছেন, কানের মঞ্চে ত্রিয়ের বক্তব্য নিয়ে মাখোঁ প্রশাসন তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেদিক থেকে টেস্ট অব থিংসই যাওয়ার কথা ছিল অস্কারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গেল অ্যানাটমি অব ফল। সিনেমাটির সিনেমাটিক গুণ নিয়ে বৈশ্বিক নানা আলোচনায়ই এগিয়ে রেখেছে অ্যানাটমি অব ফলকে। বলা হচ্ছে এর মাধ্যমে ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্কার ফ্রান্সে যাওয়ার বড় সম্ভাবনা আছে।

অ্যানাটমি অব ফল হঠাৎ কেন ফরাসি সরকারের নজরে পড়ল? মূলত সিনেমাটি নিয়ে নানা মহলেই কথা হয়েছে। এর বাইরে সিনেমাটি এমন একটি গল্প থেকে নির্মাণ করেছেন ত্রিয়ে, যা দর্শককে নতুন ধারার নির্মাণ দেখিয়েছে। সিনেমার গল্পের সঙ্গে দর্শক নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। কেননা ত্রিয়ে এমনভাবে গল্পটা বলেছেন, যেখানে থ্রিলারের ‘কে অপরাধ করেছে?’ প্রশ্নটি জ্বলন্ত থাকার পাশাপাশি সে অপরাধীকে খোঁজার যাত্রায় দর্শক নিজেকে যুক্ত করতে পারে। অ্যানাটমি অব ফলের সঙ্গে যুক্ত করেছে মার্ডার মিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় ভিজুয়াল ট্রিটমেন্ট, রক্ত ও ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে তদন্তের নানা পর্যায়।

অ্যানাটমি অব ফল সহজেই একটা পুরস্কার জিততে পারত—সেরা ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম। কিন্তু সেরা সিনেমার বিভাগে ঢুকে যাওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। একটা অসুখী বিয়ে, খুন, মার্ডার মিস্ট্রির পাশাপাশি এতে আছে কোর্টরুম ড্রামা। এসবের সঙ্গে ভিজুয়াল ট্রিটমেন্ট মিলে অস্কার জয়ের মতো প্রায় সব গুণই রেখেছেন জাস্টিন ত্রিয়ে। উপযুক্ত লবিং হলে সিনেমাটি নিয়ে আরো আলোচনা হতো এবং অস্কার জয়ের সম্ভাবনাও বাড়ত। তবে এখন অস্কার না পেলেও নোলান, স্করসেসির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন জাস্টিন। একালের ফরাসি সিনেমার ক্ষেত্রে অ্যানাটমি অব ফল আন্তর্জাতিক মহলে তার নিজের গুণেই পরিচিত হয়েছে।