মার্ভেলের সর্বশেষ সিনেমা ‘দ্য মার্ভেলস’ পেয়েছে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের সবচেয়ে বাজে ওপেনিং। ৪ কোটি ডলারের মতো আয় করেছিল সিনেমাটি। এর আগে গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম থ্রি ভালো করেছিল, কিন্তু আগের মতো সাড়া পাচ্ছে না মার্ভেল। ডিসির দ্য ফ্ল্যাশ নিয়ে খুবই আশা করে বসে ছিল বক্স অফিস। কিন্তু সিনেমাটি ব্যর্থ। মাইকেল কিটনকে ফিরিয়ে আনা, ফ্ল্যাশ টাইম প্যারাডক্স, কিছুতেই কিছু হলো না। মোটের ওপর মাত্র ২৭ কোটি ডলায় আয় করেছে এ সিনেমা। ডিসির বাজার অনেকদিন ধরেই মন্দা। তার ওপর এটা কফিনে শেষ পেরেক। বলা যেত সুপারহিরো সিনেমার বাজার কমছে। কিন্তু তা তো না। মিশন: ইম্পসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ানও আশানুরূপ আয় করেনি। মূলত এ ধরনের সিনেমাই আর চাচ্ছে না দর্শক। তাদের প্রয়োজন নতুন কিছু।

প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ধারার সিনেমা চলে। হলিউডে অ্যাকশন ধারা ছিল একসময়। চলেছে সাই-ফাই। একটা সময় ছিল রোমান্টিক ধারার। হংকংয়ে অ্যাকশন জনপ্রিয় ছিল সত্তর ও আশির দশকে। কাছাকাছি সময়ে হলিউড পেয়েছে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার বা সিলভেস্টার স্ট্যালোনকে। তারা একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এর আগে ছিল রোমান্টিক জনরা। নব্বইয়ে আবার রোমান্টিক ও ড্রামা ফিরে আসে। ২০০০ সালের পরপর দেখা গেছে সাই-ফাইয়ের বাজার। এ দশকের শেষের দিকে সায়েন্স ফিকশন ও অ্যাকশন খানিকটা বদলে যায় কমিক-বুক থেকে নির্মিত সিনেমা দিয়ে। অ্যাকশনকে নতুন করে উপস্থাপন করেছিল তারা। বিশেষত তাতে সফল ছিল মার্ভেল।

মার্ভেল ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান দিয়ে যে যাত্রা করেছিল তার রেশ এখনো আছে। তবে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম সিনেমাটির পর মার্ভেলের পুরনো আবেশটা হারিয়ে গেছে। দর্শক মার্ভেলের নতুন সিনেমাগুলোয় আর নিজেদের পছন্দের বিষয়গুলো পাচ্ছেন না। সেখানে ডিসি নতুন করে তাদের বাজার তৈরি করতে পারত কিন্তু তা হয়নি। এর মধ্যে রবার্ট প্যাটিনসনের ‘দ্য ব্যাটম্যান’ সে বার্তা দিয়েছিল, কিন্তু ওই ধারার সিনেমা আর নির্মাণ হয়নি। পাশাপাশি প্রযোজকদের বারবার পরিকল্পনা পরিবর্তন ও হলিউডে ধর্মঘটের কারণে সিনেমা নির্মাণ হয়েছে ব্যাহত।

কভিড-১৯ অতিমারী মানুষের রুচির পরিবর্তন করেছে। তারা এখন ঘরে বসে ছোট স্ক্রিনে ছোট পরিসরের সিনেমা দেখায় বেশি মন দিচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার টম ক্রুজের টপ গান: ম্যাভেরিক আশাতীত আয় করেছিল। মনে হয়েছিল পুরনো সে অ্যাকশন জনরা আবার ফিরবে। কিন্তু ওটা ছিল ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া টপ গানের প্রতি দর্শকের নস্টালজিয়ার ফল। এরপর টম ক্রুজের মিশন: ইম্পসিবল আর অতটা ভালো করেনি। এর মধ্যে তৈরি হয়নি জেমস বন্ডের কোনো সিনেমাও। ফলে অ্যাকশন জনরার সিনেমাও এখন থাকছে পিছিয়ে। দর্শক চাইলেও তা পাচ্ছে না। এর মধ্যে জন উইক মুক্তি পেলে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিল। অর্থাৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমা কোনো না কোনোভাবে আয় করছে, কেননা এর দর্শক তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু তা-ও কমছে।

দর্শক যে নতুন ধারার সিনেমা চাইছেন তার প্রমাণ মূলত গ্রেটা গেরউইগ পরিচালিত বারবি। ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমার সঙ্গে মুক্তি পায় বারবি। অবস্থা এমন হয়েছিল যে ওপেনহাইমার ও বারবিকে মিলিয়ে পরিস্থিতির নাম দেয়া হলো বারবেনহাইমার। কিন্তু বারবি আয় করল ওপেনহাইমারের চেয়ে অনেক বেশি। কেউ ধারণা করেনি এ সিনেমা বিলিয়ন ডলার আয় করবে। বাস্তবে সেটা হয়েছিল, কারণ দর্শক বারবির মধ্যে নতুন কোনো স্বাদ পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কে-পপের জনপ্রিয়তা যখন কমে আসছে, সে সময় বারবি এক নতুন রঙিন দুনিয়ার সন্ধান দিয়েছিল। এরপর দেখা গেল স্করসেসির সিনেমার তুলনায় ভালো আয় করল টেইলর সুইফটের কনসার্ট ফিল্ম।

অর্থাৎ হলিউডের দর্শক, যারা থিয়েটারে সিনেমা দেখেন, তাদের দরকার নতুন ধারার সিনেমা। সেটা খুব ভালো হতে হবে এমন না। তবে স্করসেসি, নোলান, মার্ভেল, ডিসি বা টম ক্রুজকে পাশে সরিয়ে তারা নতুন স্বাদের সিনেমা খুঁজছেন।