জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার দেড় বছর অতিক্রম হলেও কভিড পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে রোগ নির্ণয়। সিলেটের ল্যাব থেকে পরীক্ষার ফলাফল আসতে দেরি হওয়ায় লাগাম টানা যাচ্ছে না সংক্রমণের। দীর্ঘদিন থেকে জেলার মানুষ ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে সেটি স্থাপন না হওয়ায় এখন হতাশ হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কভিডের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে। সেখান থেকে পরীক্ষা নিশ্চিত হয়ে ফলাফল পেতে সর্বনিম্ন দুদিন এবং সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লেগে যায়। করোনার উচ্চ ঝুঁকির জেলা হলেও পিসিআর ল্যাব না থাকায় বাড়ছে ভোগান্তি এবং রোগ পরীক্ষায় আগ্রহ কমছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে এলেও সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ল্যাব না থাকায় সংক্রমণ বাড়ছে। ফলাফল প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতার জন্য পজিটিভ রোগীকে আইসোলেশন করা যাচ্ছে না। যার কারণে তাদের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ভাইরাস সংক্রমণ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় গতকাল পর্যন্ত করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৯। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৪০৩ জন। মোট শনাক্ত রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ বেড়েছে তিন মাসে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কভিড রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। এর মধ্যে শুধু হাসপাতালে ভর্তি ৪৫২ জন। মারা গেছে ৬৪ জন। প্রথম দফায় রোগী শনাক্তের গড় হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ৩০ শতাংশের বেশি। ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জন, এ সময় মারা গেছে একজন। শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, এটা খুব জরুরি। বিভিন্ন সময় আমাদের নমুনা পেইন্ডিং পড়ে থাকে। তবে আশার কথা হচ্ছে টিবি লেপ্রসি প্রকল্প মৌলভীবাজারে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সঙ্গে আলাপ চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপিত হয়েছে।










