ময়মনসিংহে পাইকারি বাজারে শসার দাম ৪ টাকা কেজি। তবু নেই ক্রেতা। সারি সারি শসার স্তূপ নিয়ে বসে আছে কৃষকরা। জেলার তারাকান্দা উপজেলার গোয়াতলা শসার বাজারে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। রোজায় খুচরা বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এত কম দামে শসা বিক্রি করতে হচ্ছে, এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাষিরা।
স্থানীয়রা জানান, তারাকান্দা ও ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সারা বছর শসার আবাদ হয়। এই সব এলাকার চাষিরা গোয়াতলা বাজারে শসা বিক্রি করায় এই বাজার ‘শসার বাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই বাজার থেকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ টন শসা বিভিন্ন জেলায় যায়। এই বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ জন। কৃষকের উৎপাদিত শসার দাম হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক। আবার পচনশীল পণ্য হওয়ার কারণে মজুদ করার সুযোগ না থাকায় কমদামে শসা বিক্রি করতে হচ্ছে।
তারাকান্দা উপজেলার গোহালকান্দি গ্রামের আব্দুল আজিজ জানান, ২০ শতাংশ জমিতে শসার আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এখন যে দাম, তাতে বাজারে শসা নিয়ে আসতে ভ্যান ভাড়াও উঠছে না। বকশীমুল গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, খুচরা বাজারে শসার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কেন পাইকারি বাজারে দাম পাচ্ছে না কৃষকরা । প্রশাসনে পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তারা।
এই বাজারে কয়েকজন পাইকারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ঢাকা থেকে আড়তদাররা গাড়ি পাঠাচ্ছেন না। আড়তদার না কিনলে তাদের বিক্রি করার সুযোগ নেই। এছাড়াও বাজারে চাহিদার তুলনায় শসা বেশি বলে দাম কমে গেছে।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিসার তানিয়া রহমান জানান, ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া গ্রামে প্রচুর পরিমাণ শসার আবাদ হয়েছে। এ উপজেলায় ১শ ২০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু শসার দাম কম থাকায় নাখোশ কৃষকরা।
ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শোয়েব আহমেদ জানান, জেলায় ১ হাজার ১শ ৮০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে তারাকান্দা ও ফুলপুর,গৌরীপুর ও ত্রিশাল উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। এ বছর শসার ফলনও ভালো হয়েছে। রোজায় চাহিদা মাথায় রেখে অনেক কৃষক শসার আবাদ করেছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম একেবারে কমে গেছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছেন আড়ৎদার ও দালালরা।










