স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তিন পার্বত্য জেলায়
শান্তির পরিবেশ ছিল। থানচি, রুমা, রাইক্ষ্যং সারা বিশ্বে খুব পরিচিত জায়গা। এ জায়গায়
সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য
রুমাতে একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। পরের দিন থানচিতে ঠিক সেরকমই আরেকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কাজেই রাষ্ট্র এখানে চুপ থাকতে পারে না।
শনিবার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বান্দরবান
পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এর আগে সকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর হতে হেলিকপ্টারযোগে রুমায় কেএনএফের আক্রমণে
ক্ষতিগ্রস্ত সোনালি ব্যাংক পরিদর্শন করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সেখানে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর
ফোর্স বৃদ্ধি করব। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সীমানা কাজের কর্মকাণ্ড আরো বর্ধিত
করব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেখানে যা যা প্রয়োজন আমরা তা করব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামরিক বাহিনীর প্রধানকে একটি নির্দেশনা
দিয়েছেন। সবাই মিলে যেন যৌথ অভিযান চালানো হয়। তার আগে বান্দরবানের শান্তি-শৃঙ্খলা
রক্ষার জন্য সবাই মিলে যৌথ প্রচেষ্টা চালানো হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে
বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করতে দেব না।
আমরা অনেক ধৈর্যের সঙ্গে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের
সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলাম। আলোচনা চালানো অবস্থায় তারা অবস্থান জানান দেয়ার জন্য
এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
আমরা জানতে পেরেছি, তাদের সংখ্যার অনুপাত হিসাব করলে মূল জনগণের এক
শতাংশও না। কাজেই এসব অন্যায়, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া,
এটি আর সহ্য করা হবে না। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী
কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশৈসিং, বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মো.
আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, আনসার ভিডিপির
মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ বান্দরবান
রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মেহেদী হাসান, জেলা প্রশাসক শাহ্ মুজাহিদ
উদ্দিন প্রমুখ।










