কাণ্ড ও পাতা সবুজ। পাতার কাণ্ডে যে ফল ধরেছে সেটিও সবুজ। ফলটি পাকলে হয় ভিন্ন রঙ। এটি ত্বিন ফল। দেশের মাটিতে নতুন এ ফল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। বগুড়ার শাজাহানপুরে ও জেলা সদরের দুই যুবক এ ত্বিন ফলের বাগান গড়েছেন।
জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের কাজী নুরইল গ্রামের আহসানুল কবির ডালিম তিনি বিভিন্নভাবে চারা সংগ্রহ করে নিজের জমিতে চাষ করেছেন। চারাগুলোর মধ্যে তার প্রায় ১৫টি চারা রয়েছে। সেই চারা থেকে আরো বেশকিছু চারা তৈরি করে তিনি বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে কিছু ফলও বিক্রি করেন।
অপরদিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়ার সোয়েব সাদিক নবীন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে তুরস্কের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে চারা সংগ্রহ করেন। চারা নিয়ে এসে ৬ মাস বয়সী ৬০০ চারা রোপণ করেন দুই বিঘা জমিতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে চারা রোপণের ৩ মাসের মধ্যে ফল ধরেছে গাছগুলোতে। বেলে-দোঁআশ মাটিতে জৈব ও ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বেড়ে উঠছে। প্রতিটি পাতার গোড়ায় গোড়ায় সবুজ ত্বিন ফল, যা পাকলে লাল, খয়েরি বা মেরুন রঙ ধারণ করবে। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ায় প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে এ ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে চান সিঙ্গাপুরফেরত তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা নবীন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ ফলটি ঔষধি গুণসম্পন্ন এবং স্বাদে মিষ্টি। ডুমুর আকৃতির ত্বিন ফল গাছে আসতে শুরু হওয়ায় দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দের। এলাকায় প্রথমবার চাষ হওয়ায় তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদানসহ এ ফলের বাণিজ্যিকভাবে চাষের প্রসার হবে বলে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে।
বগুড়ার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ত্বিন দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুতে চাষাবাদের উপযোগী তা প্রমাণ করেছেন শাজাহানপুরের আড়িয়া পালপাড়ার কৃষি উদ্যোক্তা। ফলটি রোগ নিরাময়ে বিশেষ করে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে আছে প্রচুর পটাশিয়াম ও ক্যালিসিয়ামসহ নানা ভেষজ গুণ। ১ বিঘা জমিতে ২ লাখ টাকা খরচে ৩০০ ত্বিন ফল গাছ লাগিয়ে বছরে ফল ও চারা বিক্রি করে ৬-৮ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। এক বছর বয়সী প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে ৩ কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭-১০ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল যা একটানা ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। শাজাহানপুর নবীন অ্যাগ্রো লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোয়েব সাদিক নবীন বলেন, চাকরির পেছনে ঘুরে হতাশ না হয়ে তরুণ যুবকদের স্বনির্ভর হতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে না গিয়ে দেশেই ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। ত্বিন ফলসহ বিভিন্ন বিদেশী ফল চাষ করে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরে আলম জানান, উপজেলার আড়িয়া এলাকায় ত্বিন ফলের চাষ হয়েছে, গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয়েছে, ফল বিক্রির পাশাপাশি চারাও বিক্রি হবে। কোনো উদ্যোক্তা বা কেউ চাষ করতে চাইলে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে উপজেলা কৃষি বিভাগ ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হর্টিকালচার সেন্টার বগুড়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম জানান, বগুড়ায় বাণিজ্যিক আকারে ত্বিন ফল চাষ শুরু হয়েছে। গাছের বৃদ্ধি ভালো, ফলনও আসছে। দেশী ফলের পাশাপাশি বিদেশী ফল ত্বিন, ড্রাগন, রাম্বুটানের চাষ সম্প্রসারণ করলে চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হর্টিকালচার সেন্টার কৃষকদের সবসময় উৎসাহিত করছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আসছে।










