হাওর অঞ্চলে পানি বাড়ায় বিপাকে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উপজেলার কৃষকরা। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেদির হাওর, আকাশি হাওর, আটাউড়ি বিল, বালিয়া বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার । এসব এলাকার দুই হাজারের বেশী কৃষকের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। সরকারি হিসেব মতে, ৩৫০ হেক্টর ধানের জমি তলিয়ে গেছে। তবে কৃষকরা বলছেন, হাজার হেক্টর জমি এখন পানির নিচে। গত দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক বিজয় জানান. ঋণ নিয়ে ১৫ কানি জমি বর্গা নিয়েছিলাম। বছরে একটি মাত্র ভালো ফসল পাওয়ার আশা ছিল। ধান বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধ করতে চেয়েছিলাম। সব আশা শেষ হয়ে গেলো। তিনি বলেন, বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ধানের জমি। স্বপ্নের ফসল এভাবে চোখের সামনে পানির নিচে চলে যাবে কখনও ভাবতে পারিনি। এমন দুঃসময়ে কৃষি বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত খবর নেয়নি।
হওর পাড়ের কৃষক জিলু চৌধুরী জানান, তার পরিবারের ৭০ কানি ধানি ফসলি জমি এখন পানির নিচে। কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে শুনলেও তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। নাসিরনগর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আজদু মিয়া বলেন, আমার জমি পানির নিচে। ধানের জমির ওপর দিয়ে এখন নৌকা চলে। অনেক কৃষক একমাত্র ফসল হারিয়ে নিঃস্ব। কেউ এখনও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য আমাকে জানায়নি। এমন কোনও নির্দেশনাও আসেনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ তারেক জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহায়তা নিয়ে দুই হাজার ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান শাওন জানান, হাওর পাড়ে মাইকিং করে কৃষককে ৮০ ভাগ পরিপক্ক ধান কেটে আনার জন্য বলা হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হবে।










