চাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সরকারি ২৫টি দপ্তর। এজন্য প্রতি মাসে সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা। তবে ভাড়া ভবনেও রয়েছে জায়গা সংকট। পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে দাঁড়িয়ে কাজ সারতে হচ্ছে।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জায়গার অভাব ও উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই ভবন নির্মাণে অগ্রগতি হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, একই ভবনে সব অফিস আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুত এ সংকট নিরসন হবে।
চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৫টি সরকারি দপ্তর ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব অফিসের ভাড়ার জন্য মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকা।
ভবন ভাড়া নিয়ে পরিচালিত সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র বালক-বালিকা, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ ছাত্রছাত্রী হোস্টেল, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কমিউনিটি ও জনশক্তি, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিশু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, তথ্য অফিস, ট্যুরিজম কার্যালয়, শিল্প-কারখানা, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট, সমাজসেবা ও নৌ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, ট্রাফিক অফিস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২৫টি।
গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর একটি হলো জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস। তারা প্রতি মাসে কার্যালয় ভাড়া দিচ্ছে ৪৪ হাজার টাকা। এ দপ্তরের কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কাদের কারণে নিজস্ব ভবন হচ্ছে না তা জানি না। তবে জেলা প্রশাসন চাইলে এটি খুব দ্রুত সমাধান সম্ভব। সরকারি ভবনে এক ছাতার নিচে সবাই কাজ করলে আমাদেরও সুবিধা হবে। আমরা চাই দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হোক।’
জেলা তথ্য কর্মকর্তা তপন ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ছিলাম। সেখানে জায়গা না থাকায় আমাদের বাইরে ভাড়া অফিস দেয়া হয়েছে। এক বছর হলো ভাড়া ভবনে কাজ করছি। তবে নিজস্ব ভবনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চিঠি বা আবেদন করা হয়নি।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। কোনো চিঠি বা আবেদন করা হয়েছে কিনা, জানা নেই।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব সরকারি দপ্তর এক জায়গায় নিয়ে আসা হলে আর্থিক সাশ্রয় হবে। মানুষও একই ভবনে সরকারি সেবা পাবে। দপ্তর প্রধানরাও একই ছাতার নিচে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকলেও গণপূর্ত বিভাগ দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তানজিল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘২০১৮ সালের হিসাবে ২৫টি দপ্তরের অফিস ভাড়া ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এখন এটি ১ কোটির ঘরে পৌঁছেছে। সরকার এরই মধ্যে সব অফিসকে এক ভবনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি বা আবেদন পাইনি।’










