পিপিআর-২০০৮ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন) লঙ্ঘন করে একটি কোম্পানিকে ২৯ লাখ টাকার কাজের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টাকা করার অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে দুই দফায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। দ্বিতীয় দফায় কমিটি গঠনের নয় মাসেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন।
দরপত্রে দেশের ছয়টি সফটওয়্যার কোম্পানি অংশ নেয়। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কারিগরি মূল্যায়ন শেষে AddieSoft, RajIT Solution এবং SoftBD নির্বাচিত হয়। SoftBD সবচেয়ে কম খরচে মাত্র ২৯ লাখ টাকায় কাজটির প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে AddieSoft চায় ৪৫ লাখ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক প্রস্তাবনা জমা দেয়ার ঠিক আগে নতুন দুটি কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হয়। এ শর্তের মাধ্যমে কম দরদাতা SoftBD-কে কৌশলে বাদ দেয়া হয়। ফলে বেশি দামে কাজটি পায় ADDIE Soft Ltd।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে তড়িঘড়ি করে বৈঠক ডাকা হয়। ২৯ জুলাই আইসিটি সেন্টারে কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর ৭ আগস্ট আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়ার দিন ধার্য করা হয়। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসিসহ পুরো শীর্ষ প্রশাসন পদত্যাগ ও আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তখন এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। সাধারণ নিয়ম ভেঙে দরপত্র জমা নেয়া হয় আইসিটি সেন্টারের নিজস্ব বাক্সে।
পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী দরপত্র খোলা, মূল্যায়ন ও সেবা গ্রহণের জন্য পৃথক কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তৎকালীন আইসিটি পরিচালক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা এবং তৎকালীন ডিন ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বিজয়ী ভেন্ডরের নেতৃত্বে একটি ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ দিয়েই সব কাজ সম্পাদন করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের আগস্টে জমা দেয়া রিপোর্টে কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয়া হয়। এতে অসন্তোষ তৈরি হলে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় তৎকালীন উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দীনকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু নয় মাস পার হলেও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তৎকালীন টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। আমরা দুবার লিখিত জবাব দিয়েছি। নতুন করে কিছু বলতে চাই না।’
এ বিষয়ে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির সভাপতি সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমান প্রো-ভিসি (প্রশাসন) স্যারের সঙ্গে কথা বলো। এ কাজ এখন তার দায়িত্বে আছে এবং তার দায়িত্বেই শেষ হবে।’
বর্তমান প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটার কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট এখনো পাবলিশড হয়নি। কমিটি প্রাথমিক কাজ করেছে। এখনো রিপোর্টটা আমার দেখার সুযোগ হয়নি।’
এদিকে আইসিটি সেন্টারের তৎকালীন পরিচালক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্যাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার জানামতে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হয়ে যাওয়ার কথা। আমাকে এ বিষয়টা একটু খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।’










