মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বাবা-মা আর তিন ভাইবোনকে হারানো শিশু সোনিয়া সুলতানাও মারা গেল। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট থেকে সোনিয়াকে পাঠানো হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে নেয়া হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। আজ বুধবার (২৭ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে সেখানে সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

সোনিয়ার মৃত্যুতে জুড়ীর বাকপ্রতিবন্ধী দিনমজুর ফয়জুর রহমানের পরিবারে আর কেউ বেঁচে রইল না। সোনিয়া উত্তর গোয়ালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন।

সোনিয়ার মামা আবদুল আজিজ জানান, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর দগ্ধ সোনিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গতকাল রাতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই সে মারা যায়। তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) ভোরে ফয়জুর রহমানের বসতঘরের উপর বজ্রপাতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পরে টিনের ঘরটি বিদ্যুতায়িত হয়। বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান পরিবারের পাঁচ সদস্য ফয়জুর রহমান (৫০) তার স্ত্রী  শিরি বেগম (৪৫) মেয়ে সামিয়া  (১৫) সাবিনা (০৯) এবং একমাত্র ছেলে সাত বছরের সায়েম উদ্দিন।

এ ঘটনা মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তিন কার্য দিবসের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।