বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। যদিও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) এর বিরোধিতা করেন। এদিন এ বিলসহ সংসদে মোট ১৩টি বিল পাস হয়।
নতুন এ আইনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি বা রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা অংশগ্রহণকারীদের সনদের ভিত্তিতে আদালতে মামলা খারিজের আবেদন করবেন। আবেদন পাওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করে আসামিকে অব্যাহতি বা খালাস দেবেন। তবে কোনো অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে যদি হত্যার অভিযোগ থাকে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্তের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে পাঠানো হবে।
বিলটি নিয়ে উত্থাপিত সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বোর্ডটি নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে জেলা কমিটি ও ক্লাবগুলোকে প্রভাবিত করেছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় বোর্ডটি বিলুপ্ত করা হয়।’
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে দিয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে।
মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিগগিরই একটি নতুন বিল আনবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, স্বায়ত্তশাসিত একটি কমিশন গঠন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং গুম-সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কারা দখল করেছিল সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।’
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) ও জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণসহ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়, যা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এছাড়া ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল ২০২৬’ ও ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এ বিলগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এছাড়া ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
পরে ‘কোর্ট অব সিভিল প্রসিডিওর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ দুটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে সংসদে উত্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘স্থানিক পরিকল্পনা বিল, ২০২৬’ ও ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) বিল, ২০২৬’ বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।










