চুয়াডাঙ্গায় কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন চাষীরা। সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে তিন গুণ মাছ উৎপাদন হয় বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। এ পদ্ধতিতে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন মাছচাষীরা। জেলায় ১০৬টি প্রদর্শনী পুকুরে এ পদ্ধতিতে মাছ মোটাতাজা করা হচ্ছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। ২০১৩-২৫ সাল পর্যন্ত জেলায় ১০৬টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ মোটাতাজাকরণ অব্যাহত রয়েছে। মাছ চাষের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি চাষীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। এ পদ্ধতিতে পুকুরে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাছের পোনা দেয়া হয়। তবে ৪০০-৫০০ গ্রামের কম ওজনের মাছ পুকুরে দেয়া হয় না। এক বছর পর পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে মাছ। এ পদ্ধতিতে অল্পদিনে বড় আকারের মাছ উৎপাদন করা যায়। অল্প পরিমাণে মাছ চাষ করতে হয় বলে প্রতি শতাংশে ১৫-২০টি পর্যন্ত পোনা ছাড়া হয়।

দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মাছচাষী সুমন হালদার দেড়শ বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ চাষ করেছেন চার বিঘা পুকুরে। এতে তার তার ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা। ছয় থেকে আট মাসে মাছ বিক্রি করে তিনি ১৫-১৬ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

একই গ্রামের পলাশ হালদার জানান, তিনি দুই বিঘা জমির একটি পুকুরে ছোট মাছ চাষ করেছিলেন। এতে ১ লাখ টাকার ওপরে লাভ হয়েছিল তার। এখন তিনিও বড় মাছ পুকুরে ছেড়েছেন। ছয় মাস পরে ২-৩ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ৯ হাজার ৩১২ জন চাষী রয়েছেন। প্রতি বছর মাছ উৎপাদন হয় ২৩ হাজার ৬২৬ টন। অবশ্য চাহিদা রয়েছে ২৭ হাজার ২৫ টন।

দামুড়হুদা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার জানান, মানুষের আর্থিক উন্নয়ন এবং আমিষের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ আরো বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের চাষীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।