ঝিনাইদহে বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে যত শিশু রোগী ভর্তি আছে তার বেশির ভাগই এ দুই রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ শিশু ভর্তি হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কক্ষের মেঝে ও বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শয্যা ও জনবল সংকটে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

গত অক্টোবর থেকে শিশু রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরে ভুগছে। এ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি চাপ বেড়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয়ও।

হাটগোপালপুরের বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার সন্তানকে হাসপাতালে এনে দেখি কোনো বেড খালি নেই। উপায় না পেয়ে এখন হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।’

সুফিয়া নামের এক নার্স জানান, কমসংখ্যক জনবল নিয়ে এত-সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তার পরও সবাইকে চিকিৎসা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন তারা।

মাত্র একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে চিকিৎসা চলছে হাসপাতালটিতে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪০। গত এক মাসে সেখানে দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (শিশু ওয়ার্ড) ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচাতে অভিভাবকদের সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’