নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের পুরোটাই চরাঞ্চল। মেঘনা নদীবেষ্টিত ইউনিয়নের নয়টি গ্রামে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের বাস। জেলা শহর থেকে চরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার, যার পুরোটাই নৌপথ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরের মানুষকে প্রতিদিন নদী পারাপারে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। নদীপথে যাত্রা শুধু সময়সাপেক্ষই নয়, বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকে সবকিছু। এছাড়া কচুরিপানার কারণেও নৌপথে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় চরের বাসিন্দাদের।

তারা বলছেন, জেলা শহর থেকে আলোকবালী ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। শহরে যাতায়াতে নৌপথে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা। রয়েছে জীবনের ঝুঁকিও। যাতায়াতের খরচও বেশি।

আলোকবালী গ্রামের রুবেল আহমেদ বলেন, ‘মেঘনা নদীতে সেতু না থাকায় নৌকায় আসতে কচুরিপানার জন্য ১ ঘণ্টার রাস্তা ৩-৪ ঘণ্টা লাগে। অসুস্থ মানুষকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেয়া যায় না। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারি না। শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ৩০০-৩৫০ মিটার সেতু নির্মাণ হলে আমাদের সমস্যা অনেকটাই কমে যেত।’

বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানির স্রোত থাকে। বছরের বাকি সময় কচুরিপানায় ঢাকা থাকে নৌপথটি। নরসিংদী এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা সম্প্রতি ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কচুরিপানার কারণে ৩ ঘণ্টা নৌকায় আটকে ছিলাম। ভোগান্তির বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। এরই মধ্যে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। আলোকবালী থেকে করিমপুরের শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

শহরের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ না থাকায় প্রশাসনও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। স্কুল পরিদর্শনের জন্য সম্প্রতি আলোকবালীতে গিয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ সগীর। তিনি বলেন, ‘সেতুর অভাব যে কত ভয়াবহ দুর্ভোগের সৃষ্টি করে, তা নিজের চোখে দেখেছি।’

ইউনিয়নটিতে রয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। সেখানেই যতটুকু চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে ততটুকুই পান ৫০ হাজার মানুষ। উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিয়ে নরসিংদী শহরে আসতে হয়।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু কাউসার সুমন বলেন, ‘আলোকবালী ইউনিয়নে একটি মাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে দুজন হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও তিনজন স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছেন। কিন্তু সেতুর অভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো ক্লিনিকে পৌঁছাতে পারেন না।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’