কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে খাসজমির দখল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। গতকাল দুপুরের দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। নিহতরা হলেন উপজেলার চিলমারী বাজারপাড়ার মৃত নবির মণ্ডলের ছেলে দিনু মণ্ডল (৭০) এবং একই এলাকার তোফাজ্জেল মণ্ডলের ছেলে আকতার মণ্ডল (৩৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। প্রায় সারা দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অন্য পক্ষের পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রায় ২০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। এ সময় হামলাকারীরা ওইসব বাড়ি থেকে গরু, ছাগল, ঘরের আসবাব ও সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে কেটে ফেলে গাছপালা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অগ্নিদগ্ধদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া গেলেও চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের পাঠানো হয় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
ওই রাতেই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মোজাম্মেল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যাচেষ্টা ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধারায় ৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১২০ জনের নামে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চিলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেলি দেওয়ানকে। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে ১৩ আসামিকে গ্রেফতার করে। আসামিদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলে পাঠান। গতকাল দুপুরে আদালত শেলী দেওয়ানের জামিন মঞ্জুর করেন।










