সম্প্রতি মুম্বাইয়ে জনসমাগমস্থলে কবুতরকে খাওয়ানোয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মুম্বাই হাইকোর্ট। আদালতের সাম্প্রতিক এ রায়কে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বির্তক। গত কয়েক সপ্তাহে শহরের পুরনো কবুতরখানা বা খাওয়ানোর জায়গা বন্ধ করে দেয়ায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে পুলিশি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কেউ কেউ হুঁশিয়ারি দিয়েছে অনশন ধর্মঘটেরও। খবর বিবিসি।
মুম্বাই প্রশাসন জানিয়েছে, কবুতরের বিষ্ঠা থেকে ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ ছড়াচ্ছে। তাই জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই কারণে ইতালির ভেনিস, সিঙ্গাপুর, লন্ডন ও নিউইয়র্কেও কবুতর খাওয়ানোয় নিয়ন্ত্রণ আছে। ভারতের পুনে ও থানেতেও জনসমাগমস্থলে কবুতরকে খাওয়ালে জরিমানা করা হয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবছে দিল্লিও।
কিন্তু এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ পাখিপ্রেমী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো। অনেকেই কবুতরকে শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখে। আর কবুতরকে খাওয়ানো ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করে মুম্বাইয়ের জৈন সম্প্রদায়। গত ৪০ বছর ধরে কবুতরকে খাওয়ান দিল্লির বাসিন্দা সৈয়দ ইসমত। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওরা সবচেয়ে নির্দোষ প্রাণী। শুধু একটু মায়াই চায়।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কবুতরের বিষ্ঠায় এমন অন্তত সাত ধরনের জীবাণু আছে যা নিউমোনিয়া, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। ভারতে কবুতরের সংখ্যা ২০০০ সালের পর থেকে ১৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। প্রতিটি কবুতর বছরে প্রায় ১৫ কেজি বিষ্ঠা ফেলে, যা বাড়িঘর ও বারান্দা ভরিয়ে দেয়।
এই ঝুঁকির কারণেই কবুতর খাওয়ানোয় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে মুম্বাই হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বলে রায় দিয়েছে। তবে পশুপ্রেমীরা বলছেন, সঠিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। কেউ কেউ প্রস্তাব দিচ্ছেন, শুধু সকালে ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময়ে কবুতর খাওয়ানোর অনুমতি দেয়া হোক, যাতে পরে জায়গা পরিষ্কার করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে ভাবতে হবে।















