পাবনা থেকে সহজে রাজধানীতে যাতায়াতে কাজীরহাট-আরিচা নৌরুটে চালু করা হয় স্পিডবোট। বোটগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন পাবনা ও মানিকগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন তারা। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্পিডবোট। এরই মধ্যে বাহনগুলোর রুট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন করে স্পিডবোট চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনার কাজীরহাট ও মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাটে ৮০-১০০টি স্পিডবোট চলাচল করত। কাজীরহাট ঘাটের স্পিডবোটগুলো মালিক ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু ও তার কর্মীরা। অন্যদিকে আরিচা ঘাটের স্পিডবোটগুলোর মালিক ছিলেন মানিকগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পরদিন স্পিডবোটগুলো ফেলে পালিয়ে যান মালিক, চালক ও কর্মচারীরা। সেই থেকে যমুনার চরে পড়ে রয়েছে বোটগুলো। সে সময় যারা স্পিডবোটগুলো পরিচালনা করতেন তাদের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল।

স্পিডবোট চালক বাপ্পী বলেন, ‘‌দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাজীরহাট থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ। ৫০-৬০ জন চালক বেকার হয়ে পড়েছেন। ৫ আগস্টের পর বোট মালিকরা পলাতক। কেউ কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না। আমরা কী করব? কাজ না থাকায় সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

কাজীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী রউচ উদ্দিন বলেন, ‘কাজীরহাট ঘাটে বিগত দিনে বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা স্পিডবোটগুলো পরিচালনা করতেন। কভিডের সময় থেকে তারা যাত্রী হয়রানি শুরু করেন, যা অব্যাহত ছিল গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত। জনরোষের ভয়ে তারা স্পিডবোট ফেলে পালিয়ে গেছেন। এখন বিআইডব্লিউটিএ বোটগুলোর রুট পারমিট বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে।’