জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষতি ও সংকট নিরূপণে উপকূলীয় জেলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য আসন্ন কপ ২৮ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর পরামর্শ দেন তারা।

গতকাল সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সংকট ও ন্যায়বিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান।

বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি ও নানা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণতা বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার নদীভাঙনের কারণে মানুষ বাস্তুভিটা ও সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব। উপকূলে লবণাক্তার বিস্তার ঘটছে। 

মিঠাপানির উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লবণ পানি ব্যবহারের কারণে উপকূলীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। মার্টির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে কৃষি উৎপাদন। প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে। উপকূলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় পুষ্টিহীনতা বাড়ছে। বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার কয়েক গুণ বেড়েছে, বেড়েছে শিশু শ্রম। নারীর গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় থাকলেও তার কোনো সুফল উপকূলের মানুষ পাচ্ছে না। তারা নিজস্ব শক্তি-সামর্থ্য ও জ্ঞান দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে একসময় বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় তাদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। 

সংলাপে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর এসএএম আব্দুল ওয়াহেদ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পরিবেশ কর্মী অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের জেলা সভাপতি অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ, সংগীত শিল্পী আফফান রোজ বাবু প্রমুখ।