ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ার আগেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সড়কপথে যানবাহনের বাড়তি চাপ না থাকায় স্বস্তি নিয়ে ফিরছেন অনেকেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেল যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-শিমুলিয়া ফেরিঘাট এলাকায়।

আজ মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৬টা থেকে মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে শুরু হয়েছে ফেরি চলাচল। 

প্রথম ধাপে দুটি ফেরি কলমিলতা ও কুঞ্জলতা দিয়ে পারাপার হচ্ছে মোটরসাইকেল, পরে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও মোটরসাইকেলের চাপ বৃদ্ধি পেলে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

সকাল ৬টায় ১৬৯টি মোটরসাইকেল নিয়ে শিমুলিয়া থেকে মাঝিরকান্দির উদ্দেশে ছেড়ে যায় প্রথম ফেরি কলমিলতা, পরে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টায় প্রায় দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে যায় কুঞ্জলতা। এরপর দুপুর ১২টায় আবারো মোটরসাইকেল ও যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া থেকে ছাড়ে কলমিলতা।

প্রমত্তা পদ্মায় প্রায় সাড়ে এগারো কিলোমিটার দূরত্বের এই নৌপথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রীরা। তবে ঘাট এলাকায় কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় তীব্র গরমে কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ করছেন অনেকেই।

মোটরসাইকেল চালক অরিন আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন লঞ্চ অথবা পিকআপ ভ্যানে বাড়তি টাকা খরচ করে মোটরসাইকেল পারাপার করতে হয়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য খরচ হতো ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় মাত্র ১৫০ টাকায় আমরা পারাপার হতে পারছি।

তুষার হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, যানজট আর ভোগান্তি এড়াতে ঈদের আগেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। এবার সড়কপথেও ভোগান্তি হয়নি, ফেরিঘাটেও পড়তে হয়নি বাড়তি ঝামেলায়। 

এদিকে ঘাট এলাকা পরিদর্শনে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, ঈদের ছুটি শুরু পর যাত্রী ও মোটরসাইকেলের চাপ বাড়লে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষায় যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখতে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি। ১৫০ টাকার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। 

ফেরদৌস আলম বলেন, একটি মহল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেল চালকদের গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তাদের পিকআপ ভ্যানে মোটরসাইকেল পারাপারে প্ররোচিত করছে। মোটরসাইকেল চালকদের প্রতি অনুরোধ, অযথা বাড়তি টাকা খরচ করে পিকআপ ভ্যানে না গিয়ে, শিমুলিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে পারাপার হোন। 

এদিকে এবার ঘাট এলাকায় নাব্য সংকট আর পদ্মায় বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে যাত্রীদের। তবে সমস্যা সমাধানের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ।