সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। উপজেলার ধুকুড়িয়া বেড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে মৌবুপুর খেয়াঘাট ও তালুকদার মিটিন হাট পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন সড়কটির কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলে সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার গোপালপুর, মিটুয়ানী, চরমিটুয়ানী, রায়পুরা ও মধ্য মিটুয়ানীসহ আশপাশের গ্রামগুলোর লক্ষাধিক মানুষ।

ঠিকাদার বলছেন, সড়কটি নির্মাণে মাটি প্রয়োজন ছিল। সড়কের পাশ থেকে মাটি খনন করায় সংশ্লিষ্টরা তাতে বাধা দেয়। দূর থেকে মাটি এনে সড়কের কাজ করতে বলা হয়। এছাড়া সড়কের দুই পাশের গর্ত ভরাট করতে ছয় মাস সময় দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু করতে এলজিইডির রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতির প্রয়োজন। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

পাল্টা অভিযোগ করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কেএম জুলফিকার আলী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সড়কের কাজ বন্ধ থাকার জন্য ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কিছু ব্যক্তি দায়ী। প্রস্তাবিত সড়কের পাশ থেকে মাটি না কাটার জন্য নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার কাজ করেছেন উল্টো। পাশ থেকে মাটি কাটায় সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। এজন্য ঠিকাদারকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি তা না করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভরাট করা হয়েছে বলে লিখিতভাবে জানান। পরে তদন্ত করে মাটি ভরাটের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চর মিটুয়ানী গ্রামে রাস্তা হবে জেনে এলাকার মানুষ খুশি। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। কাজটি শেষ হলে মানুষ সহজে চলাচল করতে পারবে। অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচলে সুবিধা হবে। কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি দূর হবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার নীতিশ চন্দ্র ভদ্র বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সব নিয়ম মেনেই কাজ করছি। কাজের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকার সিমেন্টের খুঁটি ও সিসি ব্লক তৈরি করে রেখেছি। সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। প্রায় এক বছর পার হলেও এলজিইডির রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজ শুরুর অনুমতি দিচ্ছেন না। তার কাছে কয়েকবার গিয়েছি অনুমতিপত্রের জন্য। কিন্তু নানা অজুহাতে তিনি অনুমতি দিচ্ছেন না। ব্যাংক ঋণ নিয়ে কাজ করছি। কাজ বন্ধ থাকলেও সুদ তো বন্ধ থাকছে না।’