মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় পদ্মা নদীতে ফেরিডুবির তৃতীয় দিনেও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে জাহাজ রুস্তম ও হামজা। গতকাল বেলা ২টার দিকে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে জাহাজ প্রত্যয়। তবে উদ্ধারের মূল কাজ শুরু করতে পারেনি জাহাজটি। এতে বিলম্বিত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। ঘটনার পর থেকে ফেরির দ্বিতীয় ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ূন কবিরের সন্ধান এখনো মেলেনি।
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমরা তিনটি ট্রাক উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকি ছয়টি ট্রাক শনাক্ত করতে পারিনি। এখন ফেরি ওঠানোর কাজে মনোনিবেশ করেছি। প্রত্যয় ঘাটে এসে কাজ শুরু করেছে।’
নৌ-কর্মকর্তা শাহপরান ইমন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস, নৌ-বাহিনী ও বিআইডব্লিউটিসির ডুবুরি দল একসঙ্গে কাজ করছে। নিখোঁজ হুমায়ূন কবিরকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
ফেরি উদ্ধারে কেন বিলম্ব হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি ভাসমান ফেরি আর ডুবন্ত ফেরির পজিশন এক নয়। ডুবন্ত ফেরিটি সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থায় আছে। তাই আমাদের অপারেশন পরিচালনা করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি ফেরি উদ্ধারে দৃশ্যমান কাজ শুরু করতে।’
সরজমিন দেখা গেছে, গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রত্যয় জাহাজের হুক ডুবন্ত ফেরিতে লাগাতে সক্ষম হয়নি। এটাকে উদ্ধারকাজ শুরু বলা যায় না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকচালক ও মালিকদের। মূল উদ্ধার তৎপরতা শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিখোঁজ ইঞ্জিনচালক হুমায়ূন কবিরের স্বজনরাও। অন্যদিকে প্রত্যয় আসার পর অলস সময় পার করছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা।
মুজিবল হক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আগে বলেছে প্রত্যয় এলে বাকি ট্রাক উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। টিভিতে কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দিচ্ছে প্রত্যয় কাজ শুরু করেছে। অথচ ঘাটে ২টার দিকে পৌঁছলেও বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রত্যয় ফেরি ওঠানোর আংশিক কাজ শুরুই করতে পারেনি।’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকে আমরা ফেরির বিভিন্ন শক্ত স্থানে রশি দিয়ে বাঁধার কাজ করেছি। ফেরি ভেতরে ১০টি এয়ার লিফটিং ব্যাগ ঢোকানো হয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি রজনীগন্ধা। ফেরিতে নয়টি মালবাহী যানবাহন ছিল। রাত দেড়টার দিকে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আটকে পড়ে ফেরিটি। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এরপর বুধবার সকাল ৮টার দিকে ফেরিটি ডুবে যেতে থাকে। এ সময় যানবাহনের চালক, সহকারী ও ফেরিতে কর্মরত লোকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে যায়।










