রাজধানীর শাহাবাগে দুর্ঘটনায় গণপিটুনির শিকার সেই প্রাইভেটকার চালক আজহার জাফর শাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অবহেলা, অনৈতিক অবক্ষয় ও সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বেশকিছু অভিযোগের দায়ে তাকে ওই পদ থেকে চাকরিচ্যুত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি তাকে পদ অবনমন দেয়াও হয়েছিলো বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী ও অভিযুক্তের একাধিক সহকর্মী বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী জানান, বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, আজ থেকে প্রায় যুগ আগে তার বিরুদ্ধে নৈতিক অবক্ষয়সহ বেশকিছু অভিযোগ ওঠে। আর শিক্ষক হিসেবে এ একটা অভিযোগই তাকে বহিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা যাচাই পূর্বক ২০১৬ সালের দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। 

এদিকে একাডেমিক কাজে অবহেলার কথা উল্লেখ করে বিভাগের এক শিক্ষক বণিক বার্তাকে বলেন, কোনো এক ব্যাচের পরীক্ষায় ৮৫ শিক্ষার্থীকে শূন্য নাম্বার দিয়েছিলেন তিনি। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখা যায় উনি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই নাম্বার দিয়েছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো বলে জানা যায়। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সবার সঙ্গেই অসদাচরণ করতেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে মজা পেতেন। 

এ বিষয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাফর বণিক বার্তাকে বলেন, উনি মাথায় প্রচণ্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু উনার পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় অপারেশন করা যাচ্ছে না। এদিকে পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।