বরিশাল
নদীবন্দর আধুনিকায়নে ৯২ কোটি ৮০
লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ
(বিআইডব্লিউটিএ)। যদিও পদ্মা
সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রী সংখ্যা কমেছে। ফলে টার্মিনাল আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বরিশাল দেশের অন্যতম নদীবন্দর। একসময় যাত্রীদের পদচারণায় মুখর ছিল বন্দরটি। তখন প্রয়োজনীয়সংখ্যক পন্টুন না থাকলেও যাত্রী চাপ সামাল দিতে দৈনিক চলাচল করত ৮-১২টি লঞ্চ। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংকটে বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচল করছে মাত্র দুটি লঞ্চ। যে কারণে ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে বন্দরের পন্টুনগুলো। যাত্রী সংকটের এমন সময়ে বরিশাল নদীবন্দরকেন্দ্রিক প্রকল্প ভাবিয়ে তুলছে বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, যাত্রী সংকটে যেখানে একের পর এক নৌপথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে নদীবন্দর সম্প্রসারণে এ ধরনের বিলাসী আয়োজন সরকারি সম্পদের অপচয়। তবে বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিবর্তন করে নদীপথ ড্রেজিংয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি বলে মনে করেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ প্রকল্পের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। যেখানে নাব্য সংকটে নৌরুট বন্ধ হয়ে গেছে ৩০টির মতো। তা উদ্ধারে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না করে নৌবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্প হাস্যকর। তার ওপর যাত্রীরা নৌপথ ছেড়ে এখন সড়ক পথেই ছুটছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বড় বড় লঞ্চ। মাত্র দুটি লঞ্চ চলছে এ নৌরুটে। এখন ফাঁকা পড়ে থাকছে নৌবন্দর।’
যদিও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ফেরত যাবে পুরো বরাদ্দের টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। বরিশাল নদীবন্দরে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পটি এখন না হলেও ভবিষ্যতে কাজে আসবে বলে মনে করেন বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এএইচএম ফরহাদউজ্জামান।
প্রকল্পটির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল প্রকৌশল শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশীদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের এ প্রকল্পটি নতুন নয়, ২০১৬ সালের। তখন বরিশাল নদীবন্দরে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ছিল। তখন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও এখন হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি যখন নেয়া হয় তখন বরিশাল নদীবন্দরের চিত্র এক রকম ছিল। তবে পদ্মা সেতু চালুর পরে সে চিত্র একেবারেই পাল্টে গেছে। প্রকল্পটি পরিবর্তন করে ড্রেজিং প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল আমাদের। এ নিয়ে ঢাকা-বরিশালে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে পুরো টাকাই ফেরত যাবে। তাই বাধ্য হয়েই নদীবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে।’
তবে বরিশাল লঞ্চমালিক সমিতির সহসভাপতি সাঈদুর রহমান রিন্টু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একসময় আমরা বরিশাল নদীবন্দরে টার্মিনাল সংকটে লঞ্চ পন্টুনে বাঁধতে সমস্যায় ভুগেছি। তখন কেউ আমাদের কথা শোনেনি। এখন যাত্রী নেই। লঞ্চ বন্ধ করে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার চিন্তা করছি। এখন এত বড় প্রকল্প ও আধুনিকায়ন দিয়ে কী হবে।’
বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এএইচএম ফরহাদউজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বরিশাল নদীবন্দরের এ প্রকল্পটি অনেক পুরনো। এখন যাত্রী সংকট থাকলেও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে লঞ্চে যাত্রী কমেছে এটা সত্যি। তবে এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে নৌপথের সেই জৌলুস ফিরে আসবে। কেননা এখন যে জনসংখ্যা তা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। তখন হয়তো সড়ক পথে তা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। আর সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথও টিকিয়ে রাখতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে।’










