ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গতকাল দুপুরে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের নবীনগর, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, উকিলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া জেলার সব উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে রাস্তাঘাটে ভাঙন এবং জেলা সদরের সঙ্গে চার উপজেলার  সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর, নবীনগর, ধারারগাঁও, জেলরোড, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া ও বড়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ বাসাবাড়িতেও পানি উঠেছে। এছাড়া জেলার দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলাসহ সব উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কে পানি ওঠায় ছাতকের সঙ্গে জেলাসদরসহ সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সড়কে পানি উঠে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তাহিরপুরবাসীর সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাওরের নিচু এলাকার মানুষ এখন পানিবন্দি।

নবীনগর এলাকার জসিম উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে নবীনগর এলাকার হালোওয়ার ঘাট-সুনামগঞ্জ সড়কে পানি প্রবেশ করায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া নবীনগর এলাকার পেছনে হাওরের জমির ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার সৈয়দ আহমদ বলেন, যেভাবে পানি বাড়ছে এ রকম থাকলে শহর ডুবে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জে পানি বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে।  এরই মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। আরো দু-একদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।