ঈদের আগে বরাবরই অস্থিরতা বিরাজ করে দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকার কারখানাগুলোয়। সম্প্রতি সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের আগে এপ্রিলের ১৫ দিনের বেতনসহ ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে। তবে এপ্রিলের ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উৎসব ভাতা পরিশোধ করেনি ৬৫ শতাংশের বেশি কারখানা, সংখ্যার হিসাবে যা ৬ হাজার ২৫। এলাকাগুলোর কল-কারখানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে নিয়োজিত শিল্প পুলিশ বলছে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সহায়তা নিয়ে সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটে মোট শিল্প-কারখানার সংখ্যা ৯ হাজার ১৭৬। এর মধ্যে পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৬১৫। নিট পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানা ৬৮৫টি। বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য ৩৩৮টি। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাভুক্ত কারখানা ৩৪৮টি। পাটকল ৮৩টি। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য, আসবাব, সেলফোন সংযোজন, ওষুধপণ্যসহ অন্যান্য খাতের কারখানা আছে ৬ হাজার ১০৭টি।
আশুলিয়া এলাকায় সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ১ হাজার ৫২১টি। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১৯৯টির বোনাস অপরিশোধিত রয়েছে। বিকেএমইএর সদস্য কারখানা ৪৬টি। বিটিএমএর সদস্য বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১৮। বেপজার আওতাভুক্ত বোনাস অপরিশোধিত কারখানা আটটি। এছাড়া অন্যান্য খাতে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৮১৭। সব মিলিয়ে আশুলিয়ায় উৎসব ভাতা অপরিশোধিত রয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৮৮।
গাজীপুর এলাকায় সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ২ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে ঈদ বোনাস অপরিশোধিত বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ৩৮৪টি, বিকেএমইএর কারখানা ৬৬টি এবং বিটিএমএর ৫৭টি কারখানা। এছাড়া অন্যান্য খাতের উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানা ৮৩৭টি। সব মিলিয়ে গাজীপুরে ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৪।
চট্টগ্রামে সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ১ হাজার ৪৭০টি। এর মধ্যে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১৬৪, বিকেএমইএর কারখানার সংখ্যা ৪১ ও বিটিএমএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১৯। বেপজার আওতাভুক্ত উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৯১। চট্টগ্রামের ১১টি পাটকলের একটিও বোনাস পরিশোধ করেনি। এছাড়া অন্যান্য খাতে ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৫৫৬। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৮৮২।
নারায়ণগঞ্জে সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ২ হাজার ২০৭টি। এর মধ্যে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ৬২, বিকেএমইএর কারখানার সংখ্যা ৩৪৪ ও বিটিএমএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ৯১। বেপজার আওতাভুক্ত ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১৩। নারায়ণগঞ্জের আটটি পাটকলের একটিও বোনাস পরিশোধ করেনি। এছাড়া অন্যান্য খাতে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৯। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৭।
ময়মনসিংহে সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ২৩২টি। এর মধ্যে ঈদ বোনাস অপরিশোধিত বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১২, বিটিএমএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১৩। উৎসব ভাতা অপরিশোধিত পাটকলের সংখ্যা তিন। এছাড়া অন্যান্য খাতে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৩৫। সব মিলিয়ে ময়মনসিংহে ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৬৩।
খুলনায় সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ৭৮৬টি। এর মধ্যে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা পাঁচ, বিটিএমএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১০। বেপজার আওতাভুক্ত ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা পাঁচ। খুলনার উৎসব ভাতা অপরিশোধিত পাটকলের সংখ্যা ৪২। এছাড়া অন্যান্য খাতে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৫৪৩। সব মিলিয়ে খুলনার উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ৬০৫।
সিলেট এলাকায় সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ৭৪০টি। এর মধ্যে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত রয়েছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর সদস্য কারখানার সংখ্যা একটি করে। বেপজার আওতাভুক্ত ঈদ বোনাস অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা পাঁচ। এছাড়া অন্যান্য খাতে উৎসব ভাতা অপরিশোধিত কারখানার সংখ্যা ১৪৩।
শিল্প পুলিশের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এমন কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ১৫১, শতকরা হিসাবে যা দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ৪৩৩টি, গাজীপুরে ৮৭৬, চট্টগ্রামে ৫৮৮, নারায়ণগঞ্জে ৩১০, ময়মনসিংহে ১৬৯, খুলনায় ১৮১ ও সিলেটে ৫৯৪টি শিল্প-কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে।
শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) মো. মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, আশা করি কোনো ধরনের বড় সমস্যা ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে পারবেন শ্রমিকরা। উৎসব ভাতা পরিশোধ করেনি এমন কিছু কারখানা আছে। কোনো কারখানায় সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সহায়তা নিয়ে সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা হচ্ছে। উৎসব নিয়ে সমস্যা হতে পারে এমন ধরনের কারখানাগুলোকে আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি।
শিল্প পুলিশের আওতায় থাকা কারখানাগুলোর বড় একটি অংশ পোশাক খাতের। এ খাতের বেতন-ভাতা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম মান্নান কচি বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অর্থপ্রবাহ নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এর প্রভাব শ্রমিকদের ওপর পড়বে না বলে আশা করছি। উৎসব ভাতা পরিশোধের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।










