চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া তিন বছরের শিশু মিসবাহ মারা গেছে। বুধবার রাত ৮টার পর দিকে থেকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, প্রায় ৪ ঘণ্টা শিশুটি গর্তে আটকে ছিল। গর্তের ভেতরে পানি থাকায় শিশুটির শরীরে পানি প্রবেশ করেছে। মূলত সেই পানি ও অক্সিজেন সংকটের কারণে শিশুটি মারা গেছে। আমরা গর্তের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থাও করেছিলাম। যারা এ নলকূপের কাজ করেছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, হাসপাতালে শিশুটিতে আনা হলে আমরা অক্সিজেন ও অন্য জরুরি সেবা দিলেও শিশুটি সাড়া দেয়নি। গর্তের পানি শরীরে প্রবেশ করায় শিশুটি মারা গেছে। বাচ্চাটির মুখে ও কানের ভেতরে পানি ও বালি পাওয়া গেছে। এখনো শিশুটির শরীর দিয়ে পানি বের হচ্ছে। হাসপাতালে অনেক চেষ্ট করা হলেও তাকে বাঁচানোর মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না।

স্থানীয়রা বলছেন, নলকূপের কাজ করার জন্য গর্তটি খোঁড়া হয়েছিল। গর্তে পানিও ছিলো। যারা এখানে কাজ করেছে তারা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেনি। এভাবে খোলা রেখে চলে গেছে তারা। এ অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুটি মারা গেছে। যারা এই কাজ করেছে তারা এ মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার সময় কদলপুরের দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে তিন বছর বয়সী শিশু মিসবাহ গভীর নলকুপের গর্তে পড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট বাচ্চাটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। গর্তের গভীরতা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ ফুট ছিল।