পাহাড়ি ঢলের পানিতে একের পর এক বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা-আধাপাকা ধান কেটেছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা। জেলার অধিকাংশ উপজেলার হাওরগুলো এখনো হুমকির মুখে রয়েছে। অনেক হাওরের বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এমন আতঙ্ক নিয়েই দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রোদে কৃষক-কৃষাণীরা কাঁচা-আধাপাকা বোরো ধান মাড়াই ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে যেসব হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেনি সেসব হাওরের কৃষকরা আগাম বন্যার ভয়ে কাঁচা-আধাপাকা ধান কেটেছেন এবং হাওরেই ধান মাড়াই-ঝাড়াই করছেন। দিনে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় ধান শুকাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাওরে রয়েছেন কৃষকরা।
তাহিরপুরের শনির হাওরের কৃষক গোলাম সারওয়ার বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর হচ্ছে শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর ও মহালিয়ার হাওর। এর মধ্যে মাটিয়ান হাওর ও মহালিয়ার হাওরের কৃষকরা আগাম বন্যার ভয়ে কাঁচা-আধাপাকা ধান দ্রুত কেটে নিয়েছেন। এসব হাওরের প্রায় ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। বর্তমানে শনির হাওরের ধান পুরোদমে কাটা চলছে। শনির হাওরের ধান ভালো হয়েছে। এখন ধান মাড়াই চলছে। সবাই ধান নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি।
কৃষক আবুল খায়ের বলেন, এবার আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। এর মধ্যে চার বিঘার ধান কাটা-মাড়াই শেষ। বাকি ধান ঘরে তুলতে হাওরে থেকেই আমরা ধান কাটা-মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত আছি। চলতি সপ্তাহে এ রকম রোদ থাকলে হাওরের সব ধান তুলতে পারব।
শাল্লার কৃষক শান্ত তালুকদার বলেন, কৃষকরা সবাই হাওরের ধান তোলা নিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আছি। অনেক হাওরের ধান নিয়ে গেছে পানিতে। যেহেতু আমাদের হাওরে পানি ঢোকেনি সেজন্য ধান তুলতে আমরা সবাই ব্যস্ত সময় পার করছি। যত দ্রুত পারি আমরা ধান গোলায় তোলার চেষ্টা করছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, হাওরে যে হারে ধান কাটা চলছে আমরা বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি। ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাওরের ভেতরে ৯২ ভাগ ধান কাটা হয়েছে এবং হাওরের বাইরে ৩৭ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৪ হেক্টর ধান কাটা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৮ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এ রকম রোধ থাকলে আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে হাওরের ভেতরের শতভাগ ধানা কাটা শেষ হয়ে যাবে।










