মুক্তেশ্বরী নদীটি যশোরের চৌগাছা উপজেলা থেকে এসে সদর উপজেলা হয়ে বিল হরিণায় গিয়ে শেষ হয়েছে। সর্পিলাকার এ নদী দিয়ে বর্ষাকালে সদর উপজেলা ও শহরের একাংশের পানি দক্ষিণমুখী হয়ে বিল হরিণায় গিয়ে পতিত হয়। তবে সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে নদীর একটি অংশের পুরোটাই ভরাট করে প্লট বিক্রির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে বিল হরিণায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। নদী দখলের সত্যতা মেলায় গত অক্টোবরে নদী রক্ষা কমিটির সভায় উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আগে ১ ডিসেম্বর জমির রেকর্ডধারী মোস্তফা জামাল উদ্দিন মামলা করেছেন। আদালত তার আর্জি আমলে নিয়ে মুক্তেশ্বরী খননে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে দখল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রভাবশালী চক্র সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া ও ভাতুড়িয়া পূর্বপাড়ার মাঝের মুক্তেশ্বরী নদীর একটি অংশ ভরাট করে নেয়। এরপর গত জুলাইয়ে জমিতে প্লট তৈরি করে বিক্রির জন্য নোটিস টানানো হয়। ২৪ আগস্ট জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারের নেতৃত্বে চার সদস্যের এ কমিটি গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে।
ওই জমির কেয়ারটেকার যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের এক সময়ের পিয়ন নূর ইসলাম নুরু জানান, জমির মালিক মোস্তফা জালাল উদ্দিন আদালতে মামলা করেছেন। আদালত ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
মুক্তেশ্বরী দখলের প্রতিবেদন ও আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার জানান, তারা আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন। তবে ওই নদীর ওই জমি দখল ও ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডের সত্যতা তারা পেয়েছেন। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভাতুড়িয়ার বিল হরিণা এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, দ্রুত মুক্তেশ্বরী খনন হলে বিল হরিণার জলাবদ্ধ এলাকার পানি নেমে যাবে। এতে অন্তত এক হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ সম্ভব হবে।
ভাতুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান জানান, হরিণার বিলপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তেশ্বরী দখল করে তৈরি করা প্লট অপসারণের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। তাদের আশা ছিল, দ্রুত নদী খনন করা হলে বিলের পানি নেমে যাবে এবং তারা বোরো আবাদ করতে পারবেন।
মুক্তেশ্বরী খননের দাবিতে শুক্রবার দুপুরে ভাতুড়িয়া ছোট নারায়ণপুর ব্রিজের পাশে গণসমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী এবং বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আয়োজনে গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মোসলেম উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের জন্য বিলপাড়ের সমস্ত মানুষকে লড়তে হবে। অবৈধ দখলদারদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।










