বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হলেও গত মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওই মৌসুমে সরকারি গুদামে ধান-চাল সরবরাহের জন্য জেলার ১ হাজার ৫৫৬ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হন। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৭১ জন মিলার চুক্তি অনুযায়ী গুদামে ধান-চাল সরবরাহ করেননি। ফলে প্রায় ৩৭ শতাংশ মিলারই চাল সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছেন।
তাদের দাবি, খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় তারা চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। চুক্তি করার পরও চাল সরবরাহ না করায় ৩২৩ জন মিলারের বরাদ্দপ্রাপ্তি বাতিল ও আংশিক চাল সরবরাহ করায় ২৪৮ জন মিলারের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে খাদ্য বিভাগ।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় বোরো ধানের ভালো ফলনের পরও সরকারিভাবে সংগ্রহ অভিযান সফলতা পায়নি। এপ্রিলের শেষ থেকে বগুড়ায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়। আর মে মাসে করোনাভাইরাসের প্রভাব থাকলেও কৃষি শ্রমিক সংকট ছিল না। তবে শ্রমিক মজুরি ছিল বেশি। জেলার ১২ উপজেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও আবাদ হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বেড়ে আট লাখ টনে দাঁড়ায়।
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৭১ হাজার ৮৪৮ টন সিদ্ধ চাল, ৩ হাজার ৬৩০ টন আতপ চাল ও ৩৪ হাজার ৮৬৬ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় সময় বাড়িয়েও শেষ পর্যন্ত মোট বোরো চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৬৭ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চালই সরবরাহ করেছেন মিলাররা। জেলায় মোট মিলার রয়েছেন ১ হাজার ৯৬২ জন। এর মধ্যে চুক্তিবদ্ধ মিলার ১ হাজার ৫৫৬ জন। বাকি ৪০৬ জন মিলার চুক্তি করেননি। এর মধ্যে চাল সরবরাহ করেছেন ৯৮৫ জন। চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করেননি ৩২৩ জন এবং আংশিক সরবরাহ করেছেন ২৪৮ জন। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও চাল সরবরাহ না করা ও আংশিক চাল সরবরাহ করা ৫৭১ জন চালকল মালিককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে চুক্তি করেও চাল সরবরাহ না করায় আগামী দুই মৌসুমের বরাদ্দপ্রাপ্তি বাতিল ও চুক্তি পরিমাণের ৮০ ভাগের কম চাল সরবরাহকারী চালকল মালিকদের আনুপাতিক হারে জামানত বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হয়।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ২০৯ চালকলের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয় ১০ হাজার ৬৪৯ টন। সেখানে সংগ্রহ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৬ দশমিক ৯৫০ টন। ৩০ চালকল মালিক চুক্তি করেননি। একই ভাবে পাশের দুপচাঁচিয়া উপজেলার ৪৯৫ চালকল মালিক জামানত দিলেও চুক্তি করেননি ১৭৫ চালকল। আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কুণ্ডু এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানান, চুক্তিবদ্ধ মিলারদের মধ্যে চাল সরবরাহ যারা করেননি তাদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া যারা আংশিক চাল সরবরাহ করেছেন তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জেলার যেসব মিলার চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেননি এবং যারা আংশিক চাল সরবরাহ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে শাস্তি নির্ধারণ করেছে।










