চলতি বছরের ১৫ মে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পিরোজপুর থেকে নওয়াপাড়া বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশের সহস্রাধিক কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই উচ্ছেদ হওয়া জায়গাগুলোয়ই নতুন করে গড়ে উঠছে দোকানপাট ও বিভিন্ন কাঠামো।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশেই এ অনিয়ম বাড়ছে। একেকটি উচ্ছেদ অভিযানে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু নিয়মিত তদারকি না থাকায় সেই অর্থ অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এবার সড়কটা প্রশস্ত থাকবে, যানজট কমবে। কিন্তু উচ্ছেদের কয়েকদিন পর থেকেই আবার দোকান বসতে শুরু করেছে। রাতে কাঠামো গড়ে তোলে, সকালে দেখা যায় সব দাঁড়িয়ে গেছে।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, সওজ একবার উচ্ছেদ করে চলে যায়, এরপর তারা আর কোনো তদারকি করে না। স্থানীয় কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় আবারো অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষ বিপদে মুখে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম রাস্তা প্রশস্ত থাকবে, গাড়ি চলাচলে সুবিধা হবে। কিন্তু এখন আবার আগের মতোই দোকান বসছে।’

শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষ নয়, পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে। রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পার্কিংয়ের জায়গা থাকে না, রাস্তা সংকুচিত হয়, বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান চালায় ও কঠোর নজরদারি করে, তাহলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জনবল সংকট রয়েছে, তাই নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। তবে মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী আবারো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব।’