কৃষি ইনপুট ব্যবসায় আপনার যাত্রা কীভাবে? একেবারে শুরুর গল্পটা যদি বলতেন।

আমার জন্ম বগুড়ায়। স্কুল-কলেজ শেষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর ভাবলাম, আর্থসামাজিক উন্নয়ন গবেষণা অর্থনীতিবিদদেরই কাজ। সেজন্য সেখান থেকে বের হয়ে সরকারি-বেসরকারি কোথায় যাওয়া যায় তা নিয়ে ভাবছিলাম। কিছু সময় একটি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করি এবং ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স সম্পন্ন করি। মূলত কৃষি উপকরণের ঘাটতি আমাকে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করে। বাজারজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগ্রি ইনপুট ব্যবসা শুরু করি, যা ব্যাপক সাফল্য আনে। এ সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে যৌথভাবে আরো অনেক কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ঘটে।

বাংলাদেশের এগ্রি ইনপুট যেমন কীটনাশক, সার, বীজ—এসব শিল্পের শুরু থেকে বড় কী ধরনের পরিবর্তন আপনি দেখেছেন?

পরিবর্তন হবে উন্নয়নের জন্য, দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল কৃষির জন্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। কৃষির মূল খাতগুলো চিহ্নিত করে উৎপাদন ও রফতানিমুখী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া ছিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যথাযথ পালনের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে গেছি। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য এবং উৎপাদন খরচ কেমন হবে, তা নির্ভর করে তারা কী দামে উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক) ক্রয় করছেন তার ওপর। বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা, উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার যদি রাষ্ট্র সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধান না করে, তবে কৃষকের ভাগ্যের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী শ্রমবাজারের প্রায় ৪৪ শতাংশ বা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও তারা দরিদ্র। সঠিক মূল্য ও ব্যবস্থাপনার অভাবে নিজেদের আয় দিয়ে তারা মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে পারছেন না বলেই দরিদ্র থেকে যাচ্ছেন।

শ্রমবাজারে যুক্তদের ৪৪ শতাংশ কৃষিতে—এটা কি বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান? যতদূর জানি যে এটি অনেকটাই কমে এসেছে।

এটা সর্বশেষ শ্রমবাজার জরিপের পরিসংখ্যান। শ্রম মন্ত্রণালয়ের এ জরিপের সঙ্গে এগ্রোকেমিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে আমিও ছিলাম। তাদের হিসাবে এ সংখ্যা ৪৪ শতাংশের আরো একটু বেশিই হবে।

উৎপাদন ও উৎপাদন সম্প্রসারণে প্রধান বাধা কী?

প্রথমত, বাধা হলো সরকার এটাকে অগ্রাধিকার শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে কিনা। আপনি যখন স্থানীয় শিল্পকে ভর্তুকি দেবেন, তখন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কিন্তু থামিয়ে দিয়েছেন। কারণ বিদেশের কেউ ভর্তুকির হিসাব করতে এখানে আসবে না। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলে দেখা যাবে বহু পুঁজিবাদী রাষ্ট্র আমাদের যে সক্ষমতা আছে তার চেয়ে তিন-চার গুণ সক্ষমতার কারখানা এখানে বসাবে। এখানে দরকার ছিল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দিয়ে সরকারের সম্পৃক্ততা না রেখে যারা বোঝে ও প্রযুক্তি জানে তাদের ব্যবহার করা। এতে স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প গড়ে উঠত। উন্নয়ন মানেই গবেষণা। উন্নয়নের পূর্বশর্ত গবেষণা। আপনি ধান, পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতি ‍উদ্ভাবন করছেন। কিন্তু মাটির সমস্যা বা অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার আমলাতন্ত্র বহাল থাকায় অগ্রাধিকার খাত নিয়ে কোনো সুদূরপ্রসারী ভাবনা নেই। এখানে সরকারের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগ নীতি কী হবে তা থাকা দরকার। আর থাকলেও সেটি সঠিক পথে আছে কিনা সেটি দেখা দরকার। সরকারের কাজ ব্যবসা বা আমদানি করা নয়, বরং এমন শিল্প ও বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করা উচিত, যা স্থানীয় উৎপাদন এবং রফতানিকে প্রাধান্য দেয়। দেশে থাকা শত শত আইন পরিবর্তন না করলে আমরা যে পরিবর্তনের কথা বলি সেটি হবে না। যা আমরা আমদানি করি তার মাত্র অর্ধেক রফতানি করি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও একটা দেশ এ জায়গায় থাকবে কেন? কৃষি হলো অর্থনীতির রূপান্তরের প্রধানতম স্তর। আপনি সেটাকে অবজ্ঞা করে অর্থনীতিকে সাজাবেন এটা হয় না। আমেরিকায় ৯৫ শতাংশ মানুষই ছিল কৃষক। এখন সেখানে যান তাদের ধনিক শ্রেণীর মানুষ হচ্ছে কৃষক। তারা হেলিকপ্টারে চড়ে, দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে চড়ে। তারা এমন পর্যায়ে এসেছে। পরিবর্তন করতে হলে অগ্রাধিকার চিহ্নিত করতে হবে।

স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে আমাদের কৃষির উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলেছে। এটা রোধ করতে কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন?

গ্রামীণ জনশক্তিকে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ হলো কৃষি উপকরণের সম্পূর্ণ স্থানীয়করণ। কৃষকের যেসব উপকরণের প্রয়োজন, সেগুলো দেশেই তৈরি করতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হ্রাস পাবে, স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যকে ভিত্তি করে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করতে হবে। কৃষি খাতকে মজবুত না করেই পোশাক শিল্প খাতের দিকে চলে যাওয়ার যে মিসম্যাচ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। বিগত সময়ে সংসদ সদস্যদের ৬৬ শতাংশ শিল্প মালিক হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও ইঙ্গিত দেয়, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক নীতির মধ্যে একটি গুরুতর অসামঞ্জস্য রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে এ মিসম্যাচ দূর করে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই শিল্প এবং বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করা অত্যাবশ্যক।

তাহলে সেই ৬৬ শতাংশ কৃষি খাতের ব্যবসায়ীদের হওয়া উচিত ছিল?

না, যখন আপনি শিল্প-কারখানা গড়ে তুলবেন, লাভজনক ও নিরাপদ করবেন তখন কিন্তু ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। তিনি এখানেই মনোনিবেশ করবেন। আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়গুলোকে জটিল করার কারণে তারা নিরাপত্তার জন্য রাজনীতির দিকে যাচ্ছে।

আপনি কৃষি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি এটা গঠন হয়, তাহলে মৌলিক ৩টা কাজ কী হওয়া উচিত?

আমরা কোথায় অবস্থান করছি, কৃষি কোথায় আছে, আগামী পাঁচ বছরে কোথায় নিতে চাই, সে উচ্চতায় নিতে কী কী বাধা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা প্রথম কাজ। আছি কোথায়, যেতে চাই কোথায় এবং কীভাবে যাব। আইন সংস্কার কী কী করতে হবে, বিধির কী কী সংস্কার করতে হবে, বিনিয়োগ কোথায় আকৃষ্ট করতে হবে সেগুলো চিহ্নিত করাই হবে কমিশনের কাজ।

অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির ক্ষতি নিয়ে আপনার যে উদ্বেগ সেগুলো কী? ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার টেকসই বা বিকল্প সমাধান দিচ্ছে কী?

বাংলাদেশে হেক্টরপ্রতি জমিতে যে কীটনাশক ব্যবহার হয় এর চেয়ে ১২ গুণ বেশি ব্যবহার হয় আমেরিকায়, সাত গুণ বেশি হয় জাপানে, আট-নয় গুণ বেশি হয় ফ্রান্সে। তাহলে আমাদের এখানে এত কথা কেন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কীটনাশকের বিষাক্ততার স্বাস্থ্যঝুঁকিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছে। এজন্য কোনটাকে আপনি অনুমতি দেবেন আর কোনটা দেবেন না, সেটা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে। যেটা যার ওপর অনুমোদিত সেটাতেই যাতে ব্যবহার হয় এর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানীকৃত কীটনাশক নিয়ে এসে এদেশে এর মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। স্থানীয় যারা উৎপাদন করবে তার ল্যাব, কীটনাশকের বিষাক্ততা, স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ অন্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দিতে হবে। এগুলো নির্ধারণ করে দিলে আমরা নিরাপদ কীটনাশক উৎপাদন করতে পারব এবং রফতানি করতে পারব। আমি কোম্পানি হিসেবে এবং ব্যক্তিগতভাবে এর বিজ্ঞানটা বুঝি। সেভাবেই ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার পণ্য সাজিয়েছে। যেগুলোতে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, সেগুলোর আমদানি আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া আমরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কীটনাশকের বিষাক্ততা ও কার্যকারিতা নিয়ে উচ্চতর গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ করি।

কৃষি ইনপুট শিল্পের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক খাতের বিশেষ সুবিধা বা নীতি প্রয়োজন আছে?

বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও নীতি প্রণয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। প্রথমত, এলডিসি হিসেবে আমরা যে প্রযুক্তিগত সুবিধা বা পেটেন্ট সুবিধা ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পে কাজে লাগিয়েছি, কৃষি ইনপুট (যা ফার্মা শিল্পের আইনের একই লাইনে ঢোকানো আছে) সেভাবেই ব্যবহার করা যেত। এজন্য অধিকসংখ্যক পেটেন্ট পণ্য দ্রুত মিটিং করে ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে হবে। নিম্ন সুদে অর্থায়নের মাধ্যমে কীটনাশক এবং রাসায়নিক সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের কারখানা যদি দেশে স্থাপন করা সম্ভব হয় তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমত, উৎপাদন খরচও কমে আসত। মাতৃতান্ত্রিক বীজের জন্য আমরা যে বিপুল পরিমাণে রয়্যালটি দিচ্ছি, সে খরচ কৃষকের উৎপাদনে যুক্ত হচ্ছে—কিন্তু কৃষক সেই বিষয়ে অবগত নন। সামগ্রিকভাবে, যেহেতু কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন বর্তমানে কেবল কৃষকের হাতে নেই, তাই আর্থিক খাতকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষকের জন্য স্বচ্ছ ও সহায়ক নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে কৃষি শিল্পায়নের প্রসার বাড়ছে। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার কী ভূমিকা রাখছে?

বাংলাদেশে কৃষির প্রসার হয়নি। আমরা যোজন যোজন দূরে রয়েছি। এখানে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের উদ্যোগে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছি। এখানে ২০ জন সদস্য আছে। যারা দেশেই এগ্রোকেমিক্যালস উৎপাদন করতে চায়। উৎপাদনের দুটো স্তর রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সক্রিয় উপাদান, যেটি বেসিক কেমিক্যালস। এটি পরে হয়তো আপনি বানাবেন, ওষুধ শিল্পে আমরা কিন্তু এটি এখনো বানাতে পারিনি। তারপরও ওষুধ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। ১৬০টি দেশে আমরা ওষুধ রফতানি করি কিন্তু বেসিক কাঁচামাল এখনো আমদানি করতে হয়। কিন্তু এগ্রোকেমিক্যালসে বেসিক বা মূল কাঁচামালের আমদানিকে জটিল করে রাখা হয়েছে। এটিকে জটিল থেকে জটিল করা হয়েছে। দেখে মনে হবে দেশের স্বার্থে করা। আসলে এটি অন্যের স্বার্থে কিংবা অন্যের বুদ্ধিতে করা হয়েছে। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের পক্ষ থেকে আমরা অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ে একটি আন্দোলন করছি—এ ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা ভাঙার জন্য। এটি করতে পারলে দেশেই বালাইনাশক ও সার এ দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

পেটেন্টভিত্তিক পণ্যের বিষয়ে আপনার ভাবনা কী? এখানে নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কিনা?

পুঁজিবাদী বহুজাতিক রাষ্ট্রের অস্ত্র হলো পেটেন্ট। আমেরিকার অর্থনীতির ৬০ ভাগ বাজার তার পেটেন্ট দ্বারা পরিচালিত। ফাইন্যান্সিয়াল পণ্যের ক্ষেত্রেও তারা পেটেন্ট করে। বৈজ্ঞানিক পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে তারা অসংখ্য পেটেন্ট করেছে। পেটেন্ট নিয়ে কাজ করার এখনই সময়, যেহেতু এখনো এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়নি। পেটেন্ট পণ্য নিয়ে এর উৎপাদন কৌশল আমরা রপ্ত করতে পারি। এটি করলে এলডিসি দেশে রফতানিও করা যাবে। পাশাপাশি পণ্য বানানো শিখে গেলাম।

কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কনীতি ও অনুমোদন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য কী?

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সরকার মূলত নিজের আয়ের জায়গা ঠিক রাখতেই আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছে। এ শুল্কনীতি দেশের উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্পকে সমর্থন করার পরিবর্তে রাজস্ব আহরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। এনবিআর যদি রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে আরো সহজ ও দক্ষ করত, তবে সরকারের রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ত। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে ১৫-২০ শতাংশ ঘাটতি থাকার ফলে সরকারকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা দেশকে ধীরে ধীরে অন্য একটি মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে ফেলে দেয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুল্কনীতিতে সংস্কার আনা প্রয়োজন। এনবিআরের উচিত এমন একটি শুল্কনীতি প্রণয়ন করা, যা কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দিয়ে স্থানীয় উৎপাদনমুখী এবং রফতানিমুখী শিল্পকে সর্বোচ্চ সমর্থন করে।

আগামী পাঁচ বছরে এগ্রো ইনপুট সেক্টরকে কোথায় দেখতে চান? একই সঙ্গে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারকে কোথায় দেখতে চান?

আমি বিশ্বাস করি যদি সঠিক অগ্রাধিকার দেয়া হয়, গত ৫৪ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে তা অতিক্রম করা সম্ভব। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। আমরা সে সক্ষমতা অর্জন করতে চাই।

আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।