পঞ্চগড়ে এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত সাতদিনের মধ্যে ছয়দিনই জেলায় ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৬-২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন ৯-১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বিরাজ করেছে এ জেলায়। বর্তমানে কুয়াশা কিছুটা কমলেও হিমেল বাতাসে অনুভূত হচ্ছে কনকনে শীত। আবহাওয়া অফিসও বলছে, ঘন কুয়াশা না থাকলেও তীব্র শীত অনুভূত হবে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আপাতত শীত কমবে না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে হিমালয়ের নিকটবর্তী এ জেলায়। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর তা কমে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে দাঁড়ায়। ১৬ ডিসেম্বর তাপমাত্রা নেমে যায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রির ঘরে। ১৭ ডিসেম্বর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ১০ দশমিক ০ ডিগ্রিতে গেলেও ১৮ ডিসেম্বর আবার নেমে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রির ঘরে। ১৯ ডিসেম্বর ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও ২০ ডিসেম্বর তা বেড়ে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রিতে দাঁড়ায়। ২১ ডিসেম্বর আবারো তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৬-২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন ৯-১১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, দিন দিন তাপমাত্রা কমছে। আগামী দিনগুলোয় আরো কমে যাবে। বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাপমাত্রা কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চগড়ে পৌষের প্রথম দিন ১৫ ডিসেম্বর থেকে শীতের তীব্রতা শুরু হয়। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় ঘন কুয়াশা। সকালেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়েছে। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তীব্রতা ছিল কম। দুপুর পর্যন্ত রোদ থাকলেও বিকালে আবার শুরু হয় কনকনে শীত।
পঞ্চগড় জেলায় ১২ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই লক্ষাধিক নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে চা শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, বালি ও পাথর শ্রমিক, অটোরিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিকরা কনকনে শীতে দুর্ভোগে পড়েন। গত দুদিন কুয়াশা কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার ও গতকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেছে। শীতের পোশাক ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না এখানকার মানুষ। রাতের বেলায় হাটবাজারগুলোয় দোকানের সামনে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
রামেরডাঙ্গার অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা নেই, তবু শীত লাগছে। রাতের বেলায় অতিরিক্ত শীত অনুভূত হয়। শীত এলেই তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসির রিকশাচালক জমিরুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা থাকলে শিশুদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। এজন্য তাদের আয় কমে যায়।
জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শীত নিবারণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। এরই মধ্যে ২০ হাজার কম্বল শীতার্তদের মাঝে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরো শীতবস্ত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। শীত নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই, জেলা প্রশাসন সবসময় শীতার্ত মানুষের পাশে থাকবে।’










