সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পবাসী। সরকার ৭৫টি পরিবারের জন্য সাতটি গভীর নলকূপ স্থাপন করলেও এগুলোর তিনটিতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। বাকি চারটির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। নলকূপগুলোয় মাত্রাতিরিক্ত আয়রন থাকায় আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

জানা গেছে, পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সরকার দুই ধাপে মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা এলাকায় গৃহ ও ভূমিহীন ৭৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করে। প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ জায়গার ওপর দুটি শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দাবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর দেয়া হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আশ্রয়ণের অধিকার-শেখ হাসিনার উপহার’-এ বিশেষ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সরেজমিনে গিয়ে ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৭৫টি পরিবারের জন্য দেয়া সাতটি গভীর নলকূপের তিনটিতে দেয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। এছাড়া বাকি চারটিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন থাকায় পানি খেতে পারছে না আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম জানান, প্রকল্পের উত্তর পাশে একটি গভীর নলকূপ দেয়া হলেও এটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ না দেয়ায় পানি উঠছে না। তাই পাশের অন্য একটি নলকূপ থেকে পানি এনে খেতে হয়। পাশের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন।

১০ নম্বর ঘরের বাসিন্দা আমেনা খাতুন জানান, তাদের দক্ষিণ পাশের তিনটি গভীর নলকূপের মধ্যে দুটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। বাকি একটির পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন। তবু পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টিতে পুরো আবাসন প্রকল্পে পানি জমে যায়। এছাড়া বৃষ্টির তোড়ে ঘরে পানি ঢোকে। তখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়। এরই মধ্যে অনেকে ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র ভাড়ায় চলে গিয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ জানান, মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পের নলকূপগুলো এখানো হস্তান্তর করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিল কারা, কীভাবে পরিশোধ করবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে বাকিগুলোর সংযোগ দেয়া হবে।