সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম। অন্যদিকে ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ছুঁয়েছে দেড়শ টাকা। এছাড়া সবজির বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ভাটারা নতুন বাজার, বাড্ডা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

জুলাইয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা ও দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের জেরে বাড়তে থাকে সবজির দাম। কাঁচামরিচের দাম খুচরা বাজারে বাড়তে বাড়তে ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। এর পরই কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। গত সোমবার দেশে আসতে শুরু করেছে আমদানি করা ভারতীয় কাঁচামরিচ। যশোরের বেনাপোল বন্দরের পরিদর্শক সাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৬৫ দশমিক ৩৮ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দরটি দিয়ে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৬৯ টন আমদানি হয়েছে।

ভারত থেকে কাঁচামরিচ এলেও খুচরা বাজারে এখনো তেমন প্রভাব পড়েনি। কোথাও কোথাও ২৫০ গ্রাম ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর ভাটারার নতুন বাজারের এক দোকানি বলেন, ‘যেটুকু আমদানি হয়েছে তার তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। ফলে পাইকারি বাজারেও দাম বেশি।’ সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে ২২০-২৮০ টাকা কেজিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়। দুপুরে বাড্ডায় প্রতি কেজি ৩০০-৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক প্রতিবেদন বলছে, গতকাল রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচ ২৮০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদর অনুযায়ী গতকাল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ছিল ৩০০-৩২০ টাকা।

গতকাল বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১০০-১৬০ টাকা, পটোল ৭০-৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৬০, প্রতিটি লাউ ৮০-৯০, করলা ১০০-১২০, ঝিঙা ৮০-১০০, কাঁচা পেঁপে ৩০-৫০, মুখিকচু মানভেদে ৭০-১০০, কাঁকরোল ৯০-১২০, ঢেঁড়স ৭০-৮০ ও চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধুন্দল ৮০-১০০, কচুরলতি ৮০-১০০, শসা ৭০-১২০ ও বরবটি ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে পাড়া-মহল্লার ছোট সবজির দোকান, ভ্যানগাড়ি ও আবাসিক এলাকায় সবজির দাম আরো বেশি।

মাছের দামেও গত সপ্তাহের তুলনায় ওঠানামা লক্ষ করা গেছে। গতকাল ছোট রুই (দেড় কেজির বেশি) ৩৫০-৪০০, মাঝারি রুই ৪০০-৪৮০, ছোট কাতল ৩২০-৪৫০, পাঙাশ ২২০-৩৫০, বাগদা চিংড়ি ৮০০-১০০০, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০, শিং ৪০০-৬০০, সিলভার কার্প ২০০-৩০০, তেলাপিয়া ২২০-২৮০, চাষের পাবদা ৩৫০-৪০০ ও হাওরের পাবদা ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এছাড়া গতকাল ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খুচরা বাজারে ১৪৫-১৫০ টাকায় উঠেছে ফার্মের লাল ডিমের দাম। আর প্রতি হালির দাম ৫০-৫৫ টাকা রাখা হচ্ছে। একইভাবে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২১০ টাকায়। সোনালি মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৪০-৩৭০, লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৪০, দেশী মুরগি ৬৫০-৭৫০, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।