মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘মাছ চাষ করতে গিয়ে নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। মাছের খাদ্য যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে যে মাছটা উৎপাদন হচ্ছে সেটা ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই অনিরাপদ খাদ্য যাতে বাজারে না আসে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের পাশাপাশি মাছের জন্য নিরাপদ ওষুধও নিশ্চিত করতে হবে।’

গতকাল বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মৎস্য অনুষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মৎস্য সম্মেলন এবং প্রদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তার হোসেন।

ফিশারিজ অনুষদের ডিন ও সামিট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।

উপদেষ্টা বলেন, ‘ময়মনসিংহে বেশি মাছ চাষ হলেও রাজশাহীর অবদানও কম নয়। দেশের মাছের চাহিদার ৪০ শতাংশই পূরণ করছে রাজশাহী। বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন দুই ভাবে হয়ে থাকে। একদিকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় থেকে, অন্যদিকে চাষের মাধ্যমে। দুটো পদ্ধতিই গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য চাষ নিজের গুণেই এগিয়ে যাচ্ছে। অ্যাকুয়াকালচার মাধ্যমে মৎস্য চাষের কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে, ফলে মানুষ সাশ্রয়ী দামে মাছ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’

ফরিদা আখতার বলেন, ‘মাছ রফতানি হতেই হবে। যেসব দেশে মাছ রফতানি করবেন, সেসব দেশেও বাঙালি আছে। আপনার এই মাছটি তারাই খাবে। প্রবাসীরা কষ্ট করে আমাদের রেমিট্যান্স পাঠায় অথচ তারা যদি মাছ না পায়, সেটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমি মনে করি, আমাদের রফতানির সুযোগ অবশ্যই তৈরি করতে হবে।’ এ সময় তিনি কার্প জাতীয় মাছের রফতানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘মৎস্য চাষ নীতি প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটা হলে চাষী হিসেবে করণীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। এ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান সহজ হবে।’ এ সময় তিনি ইলিশ রক্ষা এবং কৃষিজমিতে পুকুর খনন না করে অনাবাদি জমিতে পুকুর খনন করে মৎস্য চাষের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।