টানা আট থেকে ১০ দিনের ভারি বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক কৃষক আগাম ধান রোপণ করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, অন্তত তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৫০ হেক্টর বীজতলা ও ৫০০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০-৪০ শতাংশ পরিমাণ জমিতে আবাদ শেষ হয়েছে। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কমপক্ষে ১০ হাজার আমন চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সদর উপজেলার যুগরাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে রোপা আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। এরই মধ্যে আট বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছেন। বাকি জমি রোপণের জন্য বীজতলায় চারা প্রস্তুত রেখেছেন। তবে প্রায় ১০ দিনের টানা বৃষ্টির পানিতে বীজতলা ও আট বিঘা জমির রোপণ করা ধানখেত তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বিলের মধ্যে খাল উন্মুক্ত না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোপা আমন ও সবজিখেত ডুবে গেছে।’

একই গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে ৮৭ ও গুটিস্বর্ণা জাতের ধান আবাদ করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে ধানের চারাও রোপণ করেছেন। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে সমস্ত ধানখেত ডুবে গেছে কোমর সমান পানিতে। জেলা সদরের সবচেয়ে বড় বিল হচ্ছে যুগরাজপুর গ্রামে। বিলের শতভাগ ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সাতক্ষীরার কুখরালী গ্রামের কৃষক সাদেক আলী ও তুহিন হোসেন জানান, বীজতলা তৈরি শেষে কেবল রোপা আমন ধান রোপণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে তাদের বীজতলাসহ আট থেকে ১০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। শুধু তাদেরই নয়, পুরো বিলেই পানি থৈ থৈ করছে।

তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান চার বিঘা জমির সবজি দেড় থেকে দুই হাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঢেঁড়স, বরবটি, পটোল, মুখীকচু এবং ওলসহ অন্তত ৩ লাখ টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে জেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও ১৫০ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে। তাছাড়া প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির সবজি তলিয়ে গেছে পানিতে। ক্ষতিগ্রস্ত রোপা আমন, বীজতলা ও সবজিখেতের টাকার হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’