চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাইবেনীখিল এলাকায় অবাধে চলছে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিরসরাই উপজেলা মিলনায়তনে মাসিক সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পাহাড়, কৃষি জমি ও গাছ না কাটার নিদের্শনা দেন। কিন্তু সংসদ সদস্যের নিদের্শনা উপেক্ষা করে একটি সিন্ডিকেট করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখীল এলাকায় কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি পিকআপে করে মাটি বহন করা হচ্ছে। দুই অংশে বিভক্ত হয়ে কোদাল দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। প্রতিটি অংশে দুটি করে পিকআপ ও ৮-১০ জন শ্রমিক রয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটি কাটার পিকআপ চলাচলের কারণে পুরো এলাকা ধূলিময় হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। স্থানীয় ওসমান ও এরশাদ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে কৃষি জমির মাটি কাটা হচ্ছে বলে জানান তদারকি কাজে নিয়োজিত রুবেল। এ মাটি যাচ্ছে করেরহাট ইউনিয়নের আউয়াল মেম্বারের বাড়িতে। ওই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে একটি পুকুর। এ সময় সংবাদ প্রচার না করে ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন রুবেল।
মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম জানান, মাটি কেটে পিকআপে তুলে দিলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। পিকআপ চালক নূর ইসলাম জানান, প্রতি ট্রিপ মাটি বহন করে তিনি পান ৩০০ টাকা। প্রতি পিকআপ মাটি কত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সেটি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাটি কাটা সিন্ডিকেটের সদস্য এরশাদকে ফোন দেয়া হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত ওসমান জানান, তারা (এরশাদ ও ওসমান) ছাড়াও কয়েকটি সিন্ডিকেট কৃষি জমির মাটি কাটছে। ওই মাটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানাতে তিনি রাজি হননি। এ সময় তিনি সংবাদ প্রচার না করে তার (ওসমান) সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে আউয়াল মেম্বার জানান, তিনি মাদ্রাসা করার জন্য একটি কুয়া ভরাট করতে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে ৭০০ টাকা দরে ১০৭ পিকআপ মাটি কিনে নিয়েছিলেন। ওই যুবকরা তাকে বলে ছিল পুকুর খনন করে মাটি এনে দেবে। কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, আমাদের নেতা সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্প্রতি মাসিক সমন্বয় সভায় কৃষি জমির মাটি, পাহাড় ও গাছ না কাটার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার পরও কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। তিনি কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএমএন জামিউল হিকমা জানান, কৃষি জমির মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। করেরহাটের সাইবেনীখিল এলাকায় কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।










