পাবনা মানসিক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার রায়কে রাজশাহী নারী এবং শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক সশরীরে হাজির হয়ে জবাবদিহির নির্দেশ দিয়েছেন। আজ তার হাজিরার দিন ধার্য আছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পি-৯১৪/২ রেজিস্টার ফাইলের মাধ্যমে পাবনা জেলার চর সাহাপুর গ্রামের সেন্টু সরদারের মেয়ে এবং আব্দুল খালেকের স্ত্রী সেতু খাতুনকে (২৯) অর্থের বিনিময়ে রোগী সাজিয়ে গত ১৩ এপ্রিল পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেতুর বাবার পরিবার তার স্বামীর সংসারে যেতে না দেয়ার পরিকল্পনায় কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে তাকে হাসপাতাল ভর্তি করে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সেতু নিজেই স্বীকার করেন, তিনি মানসিক রোগী নন। জোর করে তাকে মানসিক রোগী বানানো হয়েছে। এরপর দুই দফায় বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করেও সেতু খাতুন মানসিক রোগী নন বলে ডাক্তারগণ মতামত দিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে সেতু মানসিক রোগী না মর্মে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন তার স্বামী আব্দুল খালেক। পিটিশন মামলাটি রাজশাহী মতিহার থানার ওপর তদন্ত পাঠালে তদন্তকারী কর্মকর্তা সেতুর জবানবন্দি গ্রহণে তাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২ জুন ভিকটিমকে হাজির করার জন্য মানসিক হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ভিকটিম সেতু খাতুনকে আদালতে হাজির না করে ৩১ মে ছাড়পত্র দিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ফলে আদালত অবমাননার কারণ ও ধার্য তারিখে ভিকটিমকে কেন আদালতে হাজির করা হয়নি এবং কেন তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তার জবাবদিহিতার জন্য ১৫ জুন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রতন কুমার রায়কে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রতন কুমারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদালত থেকে চিঠি পেয়েছি। নির্ধারিত তারিখে হাজিরার জন্য রাজশাহীতে যাবেন।










