বরিশালে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বক্তরা বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে শুধু জ্বালানি তেলের ওপর চাপ বাড়ায় না, কৃষিজমিও হারাতে হয়। এ কারণে দেশে কৃষিজমির পরিমাণ কমে আসছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ভবনের ছাদ ও সড়কের ডিভাইডার ব্যবহার করলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে।’

গতকাল অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা: ভূমি প্রাপ্যতার বাস্তবতা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও ক্লিন এ কর্মশালার আয়োজন করে।

আলোচনায় অংশ নেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান সুপ্রভাত হালদার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহম্মেদ পারভেজ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গিয়াস উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্জুম আরা ও ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলার প্রধান নির্বাহী লিংকন বায়েন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে ভবনের ছাদ ও সড়কের ডিভাইডার ব্যবহার করলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে। তাছাড়া বর্তমানে দেশে ৭৭ শতাংশ জৈব জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে। এতে পরিবেশ ও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বে খনিজ সম্পদে জ্বালানি তেলের মজুদও কমে আসছে। সূর্যের আলোয় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালে জ্বালানির ওপর চাপ কমবে।

কর্মশালার শুরুতে গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বাড়ির ছাদ ও সড়কের ডিভাইডারে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলেও মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বরিশালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ১০টি প্রতিষ্ঠান ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণ চেয়ে আবেদন করেছে। এভাবে কৃষি খাতের জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এর একমাত্র প্রতিকার হচ্ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো।