দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় বেহাল সড়ক ও ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে হিজলা পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার ১৯ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, মূল ঠিকাদার কাজগুলো উপঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় প্যাকেজে মিয়ার হাট থেকে গাবতলী হয়ে কাজিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছেন উপঠিকাদার সেলিম আহম্মেদ। ২০২৪ সালের মার্চে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। বর্তমানে ২০২৬ সাল চললেও কেবল ইটের সুরকি বিছিয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে।

তৃতীয় প্যাকেজে দফাদারহাট থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পান মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পারভেজ চান। এ অংশের জন্য প্রায় ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও গত দুই বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ঠিকাদারদের গাফিলতি ও এলজিইডির তদারকির অভাবেই প্রকল্পে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে হিজলা ও কাজিরহাট এলাকার মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে ঠিকাদার পক্ষ বিলম্বের জন্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে দেরিকে দায়ী করেছে। তবে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ অস্বীকার করে তারা জানান, পিচ ঢালাই দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটকে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তৃতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার।