প্রায় চার বছর ধরে এক প্রকার থমকে আছে কুড়িগ্রাম সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের সোনাহাট সেতু নির্মাণকাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সেতু নির্মাণ শুরু হয় ঠিকই, কিন্তু কয়েকটি পিলার তৈরির পর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিন দফা সময় বাড়িয়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অথচ সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে শুধু তাগাদা দেয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতুসহ ২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও একটি এক্সেললোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সড়ক বিভাগ। কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল ২০২১ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণে নকশা ও ভূমি অধিগ্রহণে কিছুটা জটিলতা ছিল। পাশাপাশি ঠিকাদারের হেঁয়ালিপনায় সেতুটি নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। তবে আমরা ঠিকাদারকে তাদাগা দিয়েছি দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য। ২০২৫ সালের জুনে কাজ সম্পন্ন হবে।’

এদিকে দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সোনাহাট বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। তার পরও এ সেতু দিয়েই পারাপার হচ্ছে সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথর, কয়লাসহ অন্যান্য পণ্যবোঝাই যানবাহন। জরাজীর্ণ বেইলি সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি পিলার।

এদিকে বেইলি সেতু দিয়ে ১০ টনের বেশি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ট্রাক লোড-আনলোডে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্দরের আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি ব্যবসায়ী নেতাসহ বন্দর কর্মকর্তাদের।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা বারবার বলার পরও সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারের কোনো মাথাব্যথা নেই। ব্রিটিশ আমলের বেইলি সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সোনাহাট স্থলবন্দরটিই বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক।’

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, সোনাহাটের জরাজীর্ণ বেইলি সেতুটির কারণে বন্দরের আমদানি-রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।