ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের মামা মাহবুবকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের কাজীর বলসা গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলো- নেত্রকোনার বাসিন্দা জাকির হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে সায়মা (৫) এবং নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম ও হালিমা খাতুন দম্পতির মেয়ে তৃপ্তি।
স্থানীয়রা জানান, নিহতরা সম্পর্কে বোন। প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে তারা নানার বাড়ি এসেছিল। মাহাবুব মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মাহাবুব তার ২ ভাগনিকে ঘরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
খবর পেয়ে এলাকাবাসী মাহাবুবকে ধাওয়া করলে তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে মসজিদের চারপাশ ঘেরাও করে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাহবুবকে আটক করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, হত্যাকারী মাহাবুব (২৫) নিহত শিশুদের মামা। প্রাথমিকভাবে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছে হত্যাকারী মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে ইতোমধ্যে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হত্যার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা রান্নাসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিল। এ সুযোগে ওই শিশুদের ঘরের ভেতর গলা কেটে বারান্দায় রেখে পালাতে চেষ্টা করে খুনি মাহাবুব। পরে ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে আটক করে।
স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকারী মাহাবুব ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের কাজির বলসা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। সাত ভাই-বোনের মধ্যে মাহাবুব চতুর্থ সন্তান।
মাহাবুবের ছোট ভাই সাদেকুর রহমান জানান, দাখিল পাশ করে মাহাবুব নান্দাইল উপজেলার একটি কওমি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি পাগলের মত আচরণ করায় তাকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে বেশ কয়েকবার ডাক্তারি ও কবিরাজি চিকিৎসা করানো হলেও কোনো ফল হয়নি। সেই থেকে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদির মিয়া জানান, নিহত দুই শিশুর মামাকে আটক করা হয়েছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।










