যশোর-৫ আসনে জোটের প্রার্থী বাতিলের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকালে পৌর শহরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা। আজও উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু। জোটের প্রার্থী বাদ না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে আসনটিতে বিএনপি জোটের শরিক দলকে ছাড় দিয়ে এসেছে। এবার প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী শহীদ ইকবালও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েন। কিন্তু হঠাৎ করেই বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের ঘোষণায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এর প্রতিবাদে টানা দুদিন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা। টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘টানা দুই দশকের বেশি সময় উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হাজারো নেতাকর্মী। কিন্তু সংসদ নির্বাচন এলেই শরিকদের আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। বারবার ছেড়ে দিলেও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে শরিক দলের পক্ষে কাজ করেন নেতাকর্মীরা। তবে এবার প্রাথমিক তালিকায় বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় উজ্জীবিত হয় তৃণমূল। হঠাৎ আসনটি শরিক দলকে ছেড়ে দেয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যাকে কেউ চেনে না। তার নিজস্ব কর্মীও নেই।’