দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণে হারিয়ে যেতে বসেছে বরিশাল নগরীর ২৪টি খাল। পানিপ্রবাহ ফেরাতে প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি খাল খনন শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য খালও খননের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল খনন শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে পলাশপুর খাল খননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আমানতগঞ্জ খালে ব্যয় হবে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। এছাড়া সাগরদী খালের জন্য ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপাতলী খালের জন্য ২৮ লাখ, চাঁদমারী খালের জন্য ৩২ লাখ, ভাটার খালের জন্য ৪ লাখ ও জেলখালের জন্য ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খাল খনন শেষ হলে নগরীর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে।

এ বিষয়ে বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওলিদ বলেন, ‘২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনে এ কাজ শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগরের বাসিন্দা মাহিমুল হাসান এমদাদ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারে খাল উপচে সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকে। তখন যাতায়াতসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। খাল খনন হলে হয়তো দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে। খননের পাশাপাশি সড়কগুলো উঁচু করে নির্মাণ না করলে সমস্যা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এমএস জামান মনোজ বলেন, ‘খাল খনন করা হলে হয়তো কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হয়ে পরিষ্কার পানি ফিরে আসবে।’