জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। উপজেলার কোকতারায় প্রথমে ৩৭ বিঘা জমিতে ফলটি চাষ করেন তিন যুবক। এ বছর আরো ৪০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন তারা। আগামী মৌসুমে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ফল ও চারা বিক্রির হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রাগন ফলের উৎপত্তি সেন্ট্রাল আমেরিকায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে এটি সর্বাধিক চাষ হয় ভিয়েতনামে। ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ুর বেশ মিলের কারণে ফলটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ড্রাগনের চারা রোপণের পর ১৫-২০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। ড্রাগনের গাছ সহজে মারা যায় না। ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। জয়পুরহাটের প্রায় সব উপজেলাতেই ড্রাগন চাষ হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় পাঁচবিবিতে। অনেকেই শখের বসে বাড়ির আঙিনা ও ছাদেও চাষ করছেন বিদেশী জাতের এ ফল। জেলায় ১৩০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।

ড্রাগনচাষী তুহিন বলেন, ‘ড্রাগন বিদেশী ফল। প্রথমে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছিল গাছে ফল হবে কিনা। তার পরও আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। শঙ্কা কাটিয়ে এখন আমরা ড্রাগন চাষে বেশ সফল। আমাদের বাগানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বোল্ডার ও থাইরেড জাতের ড্রাগন। এছাড়া বাগানে ভিয়েতনামি রেড, বারি ওয়ান ড্রাগন, ভিয়েতনামি হলুদ, ভিয়েতনামি সাদা, ভিয়েতনামি গোলাপি ও আমেরিকান হলুদসহ আট জাতের ড্রাগন চাষ করেছি। কোনোটির ওপরের রং গোলাপি আবার কোনোটির হলুদ। এসব জাতের ড্রাগন সব রকমের মাটিতে সহজেই চাষ করা সম্ভব।’