ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। এ কারণে উৎপাদনের শুরুতেই ব্যাপক চাহিদা থাকে সাতক্ষীরার আমের। রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আম সংগ্রহ করতে আসেন এ জেলায়। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে আশা করছে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদরের বৃহৎ বাণিজ্যিক মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারের কাঁচামালের আড়তগুলোয় দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণ আম কেনাবেচা হচ্ছে। এসব আমের মধ্যে রয়েছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই ও স্থানীয় বৈশাখী জাতের আম। তবে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আরো ১৫-২০ দিন পর বাজারে উঠবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী গ্রামের আম ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম খোকা জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ৪৫টি আম বাগান ক্রয় করেছেন। এসব বাগানে হিমসাগর, ন্যাংড়া, আম্রপালী, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বৈশাখী ও বোম্বাইসহ অন্যান্য আম রয়েছে। এরই মধ্যে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ বিক্রি শুরু করেছেন। ‌ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে তার আম কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এ বছর গোবিন্দভোগ আম বিক্রি করেছেন পাইকারি প্রতি ৩ হাজার টাকা ও গোপালভোগ ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা ভালো বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, ‘‌গেল বছর এ সময় গোবিন্দভোগ বিক্রি করেছিলাম প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং গোপালভোগ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। সে হিসাবে এ বছর মণপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

সুলতাপনুর বড় বাজারে আগত ঢাকার কাওরান বাজারের পাইকারি আম ব্যবসায়ী মোনায়েম সিদকার ও আব্বাস হাওলাদার জানান, সাতক্ষীরার আম আগে পাকার কারণে চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। গতকাল সুলতানপুর বড় বাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে ৬০ মণ গোবিন্দভোগ আম ক্রয় করেছেন তারা। তবে হিমসাগর ও ন্যাংড়া আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তারা আরো জানান, প্রতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে ২০০-২৫০ টন বিভিন্ন প্রজাতির আম কেনেন। এসব আম তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে সাত উপজেলায় ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, আনুমানিক উৎপাদন হবে ৫৫-৬০ হাজার টন। তিনি বলেন, ‘‌চলতি মৌসুমে আনুমানিক ২৯০-৩০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে গোবিন্দভোগ, গোপাল, বোম্বাই ও বৈশাখী আম ভাঙা শুরু হয়েছে। এরপর হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালী ভাঙতে আরো ১৫-২০ দিন সময় লাগবে।’