তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণপদযাত্রার ডাক দিয়েছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন। আজ বেলা ৩টায় নগরীর শাপলা চত্বর থেকে পদযাত্রাটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিলা স্কুলে গিয়ে শেষ হবে। অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ পরিবেশ কর্মী, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও তিস্তাপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেবে।

গতকাল দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু জানান, আওয়ামী লীগ বিগত ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও তিস্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে প্রতি বছর ভাঙনে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি তিস্তায় হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ ভিক্ষুকে পরিণত হচ্ছে। তিস্তাপাড়ের আর্তনাদ, বেদনা, বৈষম্য রয়েই গেছে।

তিনি বলেন, ‘রংপুর শস্যভাণ্ডার। দেশে উৎপাদিত খাদ্যের বেশির ভাগ সরবরাহ করা হয় রংপুর বিভাগ থেকে। সরকার বন্দর উন্নয়নের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়ন নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করছে না। প্রধান উপদেষ্টা চীন সফর করেছেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের ফলাফলও জাতির সামনে আনা হয়নি।’

আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। অথচ যখন তিস্তাপাড়ের মানুষ ভাঙনের শিকার হয়, বন উজাড় হয়, ফসলি জমি বিলীন হয়, তখন পরিবেশবাদীরা কিছু বলেন না। আমরা টানা ৪৮ ঘণ্টা তিস্তাপাড় থেকে আন্দোলন করেছি। এর পরও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমরা মনে করি এতে সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা প্রমুখ।