শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এরই মধ্যে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সেখানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার সহজ করা গেলে জ্ঞানের বিস্তার আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সমাবর্তনে মোট ৩ হাজার ৩২২ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৪৬ জন স্নাতক এবং ৬৭৬ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা যদি কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা যথাযথভাবে কাজে লাগে না। সমাজকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার সুযোগ ও অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করাই শিক্ষার্থীদের মূল দায়িত্ব।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার
তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের নির্দলীয় ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এ আন্দোলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সাহসী ও দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। এ সময় তিনি আন্দোলনে প্রাণ দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিরের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন এবং আহত ও শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। তিনি বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশে ও বিদেশে নীতি প্রণয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তারা নাগরিক সাহসের দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। বেকারত্ব, পরিবেশ দূষণ ও নদী দখলের মতো সমস্যায় শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের পরও এ ব্যর্থতা চলতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।










