দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি দল বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সংসদে প্রতিবাদের কথা ভাবছে দলটি। এমনকি প্রয়োজনে রাজপথে নামার ঘোষণাও আসতে পারে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে এবং এ বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবেন। এমনকি এর ফলে বহির্বিশ্ব বাংলাদেশ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে মনে করেন তারা।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ সিংহভাগ রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য শপথ নেন। শুরুতে বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় প্রতিবাদ জানায় জামায়াত এবং এটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের কাছে দাবি তোলা হলেও এখনো সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি বিএনপি। উল্টো বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদ শপথ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফলে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে বিরোধী দল। এমনকি সংবিধান সমুন্নত রাখার যেসব পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে, এতে গণভোটও বাতিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দলটি।
এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ার পাশাপাশি গণভোট বাতিলসহ সরকারি সিদ্ধান্তে কয়েকটি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। গত বুধবার সংসদের বিশেষ কমিটির সভায় গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট অধ্যাদেশ পাস না হলে আবারো স্বৈরাচারের উত্থান হবে বলে মনে করছেন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি খারাপ ইতিহাস আছে। এটি জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হয়েছে, সংবিধান মেনে না। কারণ সংবিধান অনুসারে এখন নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। তাই যদি হতো তাহলে তো নির্বাচনে সংবিধানের ব্যত্যয় হয়েছে।তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না অথচ এটি কোনো পার্টির নয়। এটি ছিল পুরো জাতির অংশগ্রহণে। এর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কোনোদিন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। প্রথমবারের মতো কোনো একটি সনদে সবাই স্বাক্ষর করার পর কেউ বিপরীতমুখী কাজ করে তাহলে তো রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন আমরা করতে পারব না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাব। যদি তাও না হয় তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন, ‘এ সংসদের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। অভ্যুত্থানের হাত ধরে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। জুলাই সনদে সরকারি দলসহ সবাই স্বাক্ষর করেছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও দেশী-বিদেশী কূটনীতিকরা অংশ নিয়েছে। সারা বিশ্বকে জানিয়ে এখন যদি সরকার বিপরীতমুখী অবস্থা নেন তাহলে এটি বিতর্কের সৃষ্টি করবে। বহির্বিশ্বকে জানিয়ে যদি সরকার নিজেই অস্বীকার করে তাহলে তারা আর আমাদের বিশ্বাস করবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু জামায়াতের নয় এটি জনগণের আঙ্ক্ষাকার প্রতীক। যদি না হয় তাহলে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। কারণ সনদের মাধ্যমে নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান মেনে হয়নি। আমরা সরকারকে বলছি গড়িমসি না করে বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় জনগণকে নিয়ে রাজপথে নামব এবং জনগণের অধিকার আদায় করা হবে।’










